ছত্তীসগঢ়ের বস্তারে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে জানান, একসময় দেশের ২০টি রাজ্যে নকশালদের প্রভাব থাকলেও বর্তমান সরকারের নীতি ও জওয়ানদের বীরত্বে তা বর্তমানে নির্মূলের পথে। পাশাপাশি তিনি বুদ্ধিজীবী মহলে লুকিয়ে থাকা 'দিমাগি নকশালদের' বিষয়েও দেশবাসীকে সতর্ক করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছত্তীসগঢ়ের বস্তারের জঙ্গলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেন এবং কার্গিল থেকে আইএনএস বিক্রান্ত পর্যন্ত সমস্ত জওয়ানদের নিজের পরিবারের অংশ বলে উল্লেখ করেন।
- প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর থেকে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে মাওবাদী সন্ত্রাস প্রায় শেষ হয়েছে এবং দেশের ২০টি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা নকশালদের প্রভাব এখন মারাত্মকভাবে কমেছে।
- মাওবাদীদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোতে লুকিয়ে থাকা 'দিমাগি নকশালদের' বিরুদ্ধে সুর চড়ান এবং তাদের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উস্কানিদাতা হিসেবে অভিহিত করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীপাবলির পবিত্র উৎসবে ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চল বস্তারে পৌঁছে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। হিমালয়ের কার্গিল থেকে শুরু করে সমুদ্রের আইএনএস বিক্রান্ত কিংবা ছত্তীসগঢ়ের জঙ্গল—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকা জওয়ানদের সঙ্গেই প্রতিবারের মতো এবারও দীপাবলি উদযাপন করেন তিনি। জওয়ানদের দেশের মূল প্রহরী ও নিজের পরিবারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণ প্রসঙ্গে বস্তারের অতীতের ভয়াল চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, একসময় এই অঞ্চলে সন্ধে নামলেই মাওবাদীদের আতঙ্ক নেমে আসত এবং সাধারণ মানুষের ভোটদানের অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আগের সরকারের আমলে মাওবাদী সমস্যা মোকাবিলায় উদাসীনতা ছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, অতীতে জওয়ানদের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং মাওবাদী দমনের চেয়ে জওয়ানদের প্রাণহানির সংখ্যা বেশি থাকত। বর্তমান সরকারের আমলে গত এক দশকে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাওবাদী সহিংসতার কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপ এবং সুনির্দিষ্ট কৌশলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাওবাদী ও নকশালদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অতীতে দেশের প্রায় ২০টি রাজ্যে নকশালদের যে প্রভাব ছিল, তা আজ অনেকটাই সংকুচিত। বস্তারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাওবাদীদের ভীতি কাটিয়ে সাধারণ মানুষ এখন উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরছেন এবং সেখানে নতুন নতুন স্কুল ও পরিকাঠামো গড়ে উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সশস্ত্র মাওবাদীরা কোণঠাসা হলেও নতুন বিপদের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্তমানে সমাজে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভেতরে 'দিমাগি নকশাল' বা বুদ্ধিজীবী ছদ্মবেশীরা অনুপ্রবেশ করেছে। এই চক্রটি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি দেশবাসীকে এদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং মাওবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।