পোশাক খাতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩২ হাজার টাকা বা ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের জোরালো দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। শ্রমিক নেতারা ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং মজুরি বৃদ্ধিকেন্দ্রিক যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে অবিলম্বে কার্যকর সরকারি ও মালিকপক্ষীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) পোশাকশ্রমিকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩২ হাজার টাকা বা ২৬০ ডলার নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করেছে।
- শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট থাকলেও অনেক কারখানায় তা মানা হয় না বলে অভিযোগ তুলেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
- মজুরি বৃদ্ধিসংক্রান্ত আলোচনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো কুচক্রী মহল পোশাক শিল্পে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩২ হাজার টাকা বা ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। বর্তমান বাজারমূল্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সংগতি রেখে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যেই এই নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের মতে, বর্তমান আয়ে রাজধানীতে বা শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংগঠন। আইনি বিধান অনুযায়ী দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা নির্ধারিত থাকলেও মাঠপর্যায়ে অনেক কারখানায় অতিরিক্ত সময় কাজ করানো এবং ওভারটাইমের উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নামে শ্রমিকদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগের বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসছে, যা শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের পরিবেশের দাবিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো মহল তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সরকারের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও শ্রম বিশেষজ্ঞরা, যা শিল্পের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
তৈরি পোশাক খাতের এই মজুরি বিতর্ক আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতক্ষমতা এবং ব্র্যান্ড ইমেজ উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সন্তোষজনক মজুরি নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে তা সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শিল্প বাঁচাতে এবং শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় উভয়পক্ষের সমঝোতা এখন সময়ের দাবি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।