দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগ্রুপ সিটি গ্রুপের ২৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তীব্র আর্থিক চাপ সামলাতে এই ঋণখেলাপি না করার পক্ষে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তারল্য সংকট কাটানোর অংশ হিসেবে গ্রুপটি তাদের কিছু সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার পুঞ্জীভূত ঋণ পুনর্গঠন বা রিস্ট্রাকচারিং করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে সিটি গ্রুপকে তাৎক্ষণিকভাবে ঋণখেলাপি না করার পরামর্শ প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- তীব্র আর্থিক চাপ ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করতে সিটি গ্রুপ তাদের মালিকানাধীন কিছু লাভজনক বা অলাভজনক সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক মন্দার কারণে গ্রুপটি যে তীব্র আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিটি গ্রুপকে তাৎক্ষণিকভাবে ঋণখেলাপি ঘোষণা না করে বরং তাদের ঋণ পরিশোধের শর্ত শিথিল ও পুনর্গঠন করার পরামর্শ দিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশে ডলারের বিনিময় হারের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলো তারল্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সিটি গ্রুপের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎপাদনে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত নমনীয়তার পরিচয় দিচ্ছে, যার আওতায় এই ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ ব্যবস্থাপনার নতুন রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রধান শিল্প গ্রুপগুলোর ওপর হঠাৎ করেই আইনি কঠোরতা আরোপ করা হলে তা পুরো সরবরাহ চেইন ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিটি গ্রুপের মতো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পরামর্শ ব্যাংক খাত ও করপোরেট জগতের মধ্যে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে আর্থিক চাপ সামাল দিতে এবং ব্যাংকগুলোর দায় পরিশোধ করতে সিটি গ্রুপ নিজেদের কিছু সম্পদ বিক্রিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশীয় বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের এই ক্রান্তিকাল কাটিয়ে উঠতে সঠিক নীতি সহায়তা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা না গেলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা মত প্রকাশ করেছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।