লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

প্রাচীন ভারতের ‘রসশাস্ত্র’ সূত্র মেনে পারদ থেকে সোনা বানানোর দাবি জয়পুরের বিজ্ঞানীর

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 29 অক্টোবর 2026, 09:15 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 44 বার পঠিত
প্রাচীন ভারতের ‘রসশাস্ত্র’ সূত্র মেনে পারদ থেকে সোনা বানানোর দাবি জয়পুরের বিজ্ঞানীর
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

রাজস্থানের জয়পুরের কানোদিয়া কলেজের গবেষক লাল বাহাদুর প্রাচীন ‘রসশাস্ত্র’ অনুসরণ করে পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি করেছেন। ০.২৪০ গ্রাম পারদ ব্যবহার করে পরিচালিত পরীক্ষায় নমুনার উপরিভাগে ৯৯.০৪% বিশুদ্ধ সোনা পাওয়ার দাবি করা হয়েছে, যা ২৩.৭৭ ক্যারেট মানের। তবে বৈজ্ঞানিক মহলে এই দাবি নিয়ে সংশয় রয়েছে, কারণ পারমাণবিক পরিবর্তন ছাড়া মৌল রূপান্তর অসম্ভব।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • গবেষক লাল বাহাদুর ০.২৪০ গ্রাম পারদ ব্যবহার করে পরীক্ষায় ৯৯.০৪% বিশুদ্ধ সোনা, ০.৪৮% রুপা এবং ০.৪৮% তামা পাওয়ার দাবি করেছেন, যা ২৩.৭৭ ক্যারেট সোনার সমতুল্য।
  • বিআইটিএস পিলানি থেকে স্নাতকধারী লাল বাহাদুর দাবি করেছেন, তার এই পরীক্ষায় কোনো তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) শনাক্ত হয়নি এবং তিনি প্রাচীন আচার্য নাগার্জুনের রসশাস্ত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত।
  • বিজ্ঞানীদের মতে, পারদের ৮০টি প্রোটন থেকে সোনার ৭৯টি প্রোটনে রূপান্তর সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অসম্ভব; এটি কেবল পারমাণবিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব, যা এখনো কোনো পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রমাণিত হয়নি।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

রাজস্থানের জয়পুরের কানোদিয়া কলেজের পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে প্রাচীন ভারতীয় ‘রসশাস্ত্র’ বা আলকেমির সূত্র প্রয়োগ করে পারদ থেকে সোনা তৈরির চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন গবেষক লাল বাহাদুর। তিনি দাবি করেছেন, ০.২৪০ গ্রাম পারদ নিয়ে পরিচালিত পরীক্ষায় নমুনার উপরিভাগে ৯৯.০৪% বিশুদ্ধ সোনা পাওয়া গেছে। এই বিশুদ্ধতার মাত্রা ২৩.৭৭ ক্যারেট সোনার সমান বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এই রূপান্তর কেবল নমুনার উপরিভাগেই সীমাবদ্ধ ছিল, পুরো নমুনাটি সোনায় রূপান্তরিত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ‘পারদ সংস্কার’ নিয়ে গবেষণা করা লাল বাহাদুর পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি তার গবেষণায় প্রাচীন রসায়নবিদ আচার্য নাগার্জুনের তত্ত্বকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নির্গত হয়নি। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দাবি অত্যন্ত বিতর্কিত, কারণ পারদ (৮০টি প্রোটন) থেকে সোনা (৭৯টি প্রোটন) তৈরি করতে হলে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যা সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সম্ভব নয়।

বর্তমানে এই দাবিটি কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়নি বা নিরপেক্ষ কোনো গবেষণাগারে যাচাই করা হয়নি। জয়পুরের এমএনআইটি (MNIT)-তে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণের মতো কঠোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রয়োজন। স্বতন্ত্র প্রমাণ ছাড়া এই দাবিকে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

এই ঘটনাটি রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক কাঠামোর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। যদি কোনোভাবে এটি প্রমাণিত হয়, তবে তা আধুনিক রসায়নের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি কেবল একটি তাত্ত্বিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা মূলধারার বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ