প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ যোগেন চৌধুরী লক্ষ্মীপুজোর দিন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ৯০ বছর বয়সে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ছাড়াও ব্লাড ক্যানসার ও মূত্রনালির সংক্রমণে ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি আধুনিক ভারতীয় ও বাংলা চিত্রকলার অন্যতম প্রধান দিকপাল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ যোগেন চৌধুরী কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন।
- তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং মূত্রনালির সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
- ২০১৪ সালে তিনি শেষবারের মতো তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং তাঁর অনেক শিল্পকর্মে মাটির প্রতি টান ও স্মৃতিকাতরতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলা আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম দিকপাল ও বরেণ্য শিল্পী যোগেন চৌধুরী মারা গেছেন। লক্ষ্মীপুজোর দিন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি মূত্রনালির মারাত্মক সংক্রমণ নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
১৯৩৯ সালে ফরিদপুরের রাজবাড়ী জেলার ডহরপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা যোগেন চৌধুরী দেশভাগের পর ভারতে চলে যান। শান্তিনিকেতনের কলাভবনে শিল্পশিক্ষা শেষ করে তিনি চেন্নাইয়ের তাঁত বোর্ডের ডিজাইন সেন্টারে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসের 'একোল দ্য বোজা-আঁ' ও 'লোম দে পারস' প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতির সংগ্রহশালার কিউরেটর এবং শান্তিনিকেতনের কলাভবনের অধ্যাপক হিসেবেও অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যোগেন চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, তিনি ছিলেন ভারতীয় শিল্পকলার এমন এক জাদুকর, যাঁর রেখার টানে মানুষের ভেতরের আনন্দ, বেদনা ও জটিল মানসিকতা অনন্যূপে ফুটে উঠত। ২০১৪ সালে তিনি শেষবারের মতো তাঁর পৈতৃক ভিটা বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাঁর ক্যানভাসে বারবার ফিরে এসেছে গ্রামবাংলার স্মৃতি, ডহরপাড়ার মাঠঘাট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিল্পীর শিল্পকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের কোটা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পসাধনা আগামী প্রজন্মের চিত্রশিল্পীদের সবসময় অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং তাঁর অবদান বাংলা ও আন্তর্জাতিক শিল্পকলায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।