অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের অতর্কিত গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর চরম ক্ষুব্ধ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এই অঞ্চলে সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি গোটা পশ্চিম তীরে পূর্ণ লকডাউন ও মাত্র পাঁচ মিনিটের নোটিশে বাড়িঘর উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বন্দুকধারীর হামলায় দুজন ইসরায়েলি সেনা নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান চালানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
- নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে পশ্চিম তীরে পূর্ণ লকডাউন জারি করা হয়েছে এবং মাত্র ৫ মিনিটের নোটিশে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর উচ্ছেদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অধিকৃত পশ্চিম তীরে তীব্র ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও সশস্ত্র হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে নজিরবিহীনভাবে 'ব্যাপক সামরিক অভিযান' পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি কতৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নেতানিয়াহু প্রশাসন ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে এ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় এবং সর্বাত্মক সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সাজানো এই পদক্ষেপে পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে কঠোর সামরিক অবরোধ বা পূর্ণ লকডাউন আরোপ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে ইসরায়েল সরকার মাত্র পাঁচ মিনিটের নোটিশে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর উচ্ছেদের মতো চরম নির্দেশ জারি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষপকে বেআইনি ও সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানালেও তেল আবিব তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই আগ্রাসনকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে এই সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু হলে গোটা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে যাবে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে। এর ফলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোকজনের মানবিক সংকট চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ও ভূ-রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।