চিকিৎসা ব্যয়ের মাত্রাতিরিক্ত চাপের কারণে দেশের প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতের উচ্চ খরচ এবং পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের সিংহভাগই রোগীদের নিজস্ব পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়, যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে তুলছে। অবিলম্বে সামাজিক নিরাপত্তা ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চিকিৎসা খরচের প্রত্যক্ষ চাপে দেশে নতুন করে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।
- দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৭ শতাংশই রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে অর্থাৎ আউট-অব-পকেট এক্সপেন্ডিচার হিসেবে মেটাতে হয়।
- বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য খাতের এই সংকট মোকাবেলায় অবিলম্বে সার্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা এবং চিকিৎসা ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চিকিৎসা খরচের আর্থিক চাপে দেশের প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মূলত মারাত্মক রোগব্যাধির চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই তাদের সর্বস্ব হারাচ্ছেন এবং ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি পরিবারের প্রধান বা কোনো সদস্য গুরুতর অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়েই সঞ্চয় ফুরিয়ে যায়। অনেক পরিবারকে জমিজমা বা বসতভিটাও বিক্রি করতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৪০ শতাংশের বেশি যদি পকেট থেকে খরচ করতে হয়, তবে তা বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়ের রূপ নেয়। বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৬৭ শতাংশের কাছাকাছি, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। সরকারি হাসপাতালের অপর্যাপ্ত সেবা এবং ওষুধের উচ্চ মূল্যের কারণে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে চর্বিযুক্ত খরচে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ছুটছেন। এর ফলে নিম্নবিত্ত তো বটেই, অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও রাতারাতি দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং গ্রামাঞ্চলের কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সেবার মান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষকে আর চিকিৎসা খরচের চাপে নিঃস্ব হতে না হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।