লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

পুরোহিতকে কোপাতে গিয়েই নিজেই দৃষ্টিহীন বর্গী সর্দার! বাঁকুড়ার সোনামুখীকে সে দিন রক্ষা করেছিলেন কে?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 07 নভেম্বর 2026, 11:24 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 38 বার পঠিত
পুরোহিতকে কোপাতে গিয়েই নিজেই দৃষ্টিহীন বর্গী সর্দার! বাঁকুড়ার সোনামুখীকে সে দিন রক্ষা করেছিলেন কে?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

বাঁকুড়ার সোনামুখীর সাড়ে চারশো বছরের প্রাচীন হটনগর কালী প্রতি বছর কালীপূজায় ভক্ত সমাগমে মুখরিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় বর্গী সর্দার এক পুরোহিতকে আক্রমণ করতে গেলে দৈব কৃপায় তার দৃষ্টিশক্তি লোপ পায় এবং ঘটে রাখা জলে দৃষ্টি ফিরে পায়। এই অলৌকিক ইতিহাস ও মানত পূরণের লোকবিশ্বাস ঘিরে সোনামুখীর এই জাগ্রত কালী প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • বাঁকুড়ার সোনামুখীর হটনগর কালী মন্দিরটি সাড়ে চারশো বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
  • কিংবদন্তি অনুযায়ী, অতীতে এক বর্গী সর্দার পুরোহিতকে কোপাতে উদ্যত হলে দেবীর কৃপায় অন্ধ হয়ে যায় এবং পরে ঘটে রাখা জলে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়।
  • এখানে ভক্তদের মানত করলেই নিশ্চিত চাকরি ও মনস্কামনা পূরণের বিশেষ অলৌকিক মাহাত্ম্যের বিশ্বাস রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক সোনামুখী অঞ্চলের প্রাচীন হটনগর কালী পূজা মানেই এক অনন্য লোকঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য। প্রায় সাড়ে চারশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মন্দিরে মা কালী অত্যন্ত ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হয়ে আসছেন। এখানকার প্রতিটি আচারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও অলৌকিক সব জনশ্রুতি, যা আজও স্থানীয় মানুষ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের মনে গভীর বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।

কথিত আছে, বাংলার ইতিহাসের turbulent সময়ে বর্গী আক্রমণের উপদ্রব যখন চরমে, সে সময় এক বর্গী সর্দার সোনামুখীর এই মন্দিরে পুরোহিতকে আক্রমণ করতে আসে। কিন্তু অলৌকিক শক্তির প্রভাবে সে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয়ে দেবীর চরণে ক্ষমা চাওয়ায় এবং ঘটে রাখা জল চোখে দেওয়ার পর সে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায় বলে প্রবাদ রয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকেই বর্গী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে এই দেবীর জাগ্রত স্বরূপ নিয়ে গভীর ভীতি ও অগাধ বিশ্বাস জন্ম নেয়।

বর্তমানে প্রতি বছর কালীপূজার দিনটিতে এই মন্দিরে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। ভক্তদের বিশ্বাস, মা ক্ষ্যাপা কালী এতটাই জাগ্রত যে এখানে খাঁটি মনে মানত করলে চাকরিপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে জীবনের সমস্ত জটিল সমস্যার অবসান ঘটে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর নিয়মনিষ্ঠা ও বলিদানসহ প্রাচীন প্রথা মেনেই পূজা সম্পন্ন হয়, যেখানে হাজার হাজার পুণ্যার্থী অংশ নেন।

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সোনামুখীর হটনগর কালীর এই প্রাচীন ঐতিহ্য ও অলৌকিক ইতিহাস আজও এলাকার সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হয়ে রয়েছে। গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই ধরনের আঞ্চলিক লোকগাথা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলার গ্রামীণ ইতিহাস এবং সামাজিক নিরাপত্তার এক একটি অনন্য দলিল হিসেবে টিকে আছে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ