দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও উখিয়ার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মেরিন ড্রাইভের ৮০টির বেশি রিসোর্টের ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি রয়েছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই বুকিং বাতিল করে শহরের হোটেলে উঠছেন। ব্যবসায়ীরা ১০ দিনে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার আশা করলেও পর্যটকদের আস্থাহীনতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর অবহেলাজনিত অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং জাহিদ হোসেন নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
- মেরিন ড্রাইভের ৮০টির বেশি রিসোর্ট ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে, যেখানে সালমান ও পালকি রিসোর্টের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে আগাম বুকিং বাতিল করেছেন আতঙ্কিত পর্যটকেরা।
- চলमान ১০ দিনের অবকাশে কক্সবাজারে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ও ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইনানী ও মেরিন ড্রাইভের বাঁশ-কাঠের ইকো রিসোর্টগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ছুਨকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ঢল নামলেও এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোতে। গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় এই এলাকার আবাসন খাত বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই মেরিন ড্রাইভের সৈকতঘেঁষা রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে রাত কাটানো নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকে তাদের আগাম বুকিং বাতিল করছেন কিংবা মেরিন ড্রাইভের পরিবর্তে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে শহরের হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি অর্ধশতাধিক পরিবেশবান্ধব ইকো রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পর্যটকরা চরম অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। ইনানী সৈকতসংলগ্ন নয়টি কক্ষের সালমান রিসোর্টে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং থাকা সত্ত্বেও পর্যটকদের অনুপস্থিতির কারণে কক্ষগুলো খালি পড়ে আছে। একইভাবে পালকি রিসোর্ট, বিচ ভিউ এবং ফাইন ডাইনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ৬০ জনের ধারণক্ষমতা সত্ত্বেও মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন অতিথি অবস্থান করছেন। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে প্যাঁচারদ্বীপের মারমেইড বিচ রিসোর্টের মতো কিছু উন্নত ব্যবস্থাপনাযুক্ত প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব তেমন পড়েনি।
ঘটনার আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে জানা যায়, ১০ পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশীষ সূত্রধর ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে চারজনকে এজাহারনামীয় ও ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি জাহিদ হোসেনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হয়েছে এবং পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনের এই ছুটির সময়ে কক্সবাজারে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে এবং হোটেল, রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য খাতে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা আশা করা হচ্ছে। মূল শহরের তারকা মানের হোটেলগুলোতে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বুকিং থাকলেও মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোর এই আস্থাহীনতা পুরো পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি পর্যটকদের মনে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।