সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে বেতন বাড়লেও রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সম্মানী অপরিবর্তিত থাকছে। নবম পে-স্কেলে সচিবদের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা হলেও রাষ্ট্রপতির সম্মানী ১ লাখ ২০ হাজার ও প্রধানমন্ত্রীর ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় আটকে আছে। সরকারের মিতব্যয়িতা নীতির কারণে প্রধানমন্ত্রী এই সম্মানী বৃদ্ধিতে সায় দেননি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নবম পে-স্কেল অনুযায়ী সচিবদের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির ১ লাখ ২০ হাজার ও প্রধানমন্ত্রীর ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার সম্মানীকে ছাড়িয়ে গেছে।
- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সম্মানী বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত বা সম্মতি না মেলায় সেই উদ্যোগ স্থগিত রয়েছে।
- জনপ্রতিনিধিদের মিতব্যয়ী হওয়ার বার্তা দিতে এবং সরকারি কর্মচারীদের লোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের এই সম্মানী বৃদ্ধির ফাইল আটকে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হলেও রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সম্মানী বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ আপাতত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গত জুলাই মাস থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন পেলেও রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা পুরোনো সম্মানীতেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আইন অনুযায়ী পৃথক পৃথক বিধিমালার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়ে থাকে। ফলে সরকারি পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের সম্মানী বাড়ানোর প্রথা থাকলেও এবার তার ব্যত্যয় ঘটেছে।
নতুন পে-স্কেলের প্রভাবে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মূল বেতন শীর্ষ ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নবম পে-স্কেলের তথ্য অনুযায়ী, সচিবদের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পাচ্ছেন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে রাষ্ট্রপতির সম্মানী নির্ধারিত আছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যথাক্রমে ১ লাখ ৫ হাজার ও ৯২ হাজার টাকা সম্মানী পেয়ে থাকেন, যা প্রশাসনের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়েও কম।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেল ঘোষণার পরপরই ঐতিহ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানোর আইন সংশোধনের একটি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। জনপ্রতিনিধিদের মিতব্যয়ী হওয়ার নজির স্থাপন এবং প্রশাসনের অন্যান্য স্তরে সুশাসন ও লোভ সংবরণের বার্তা দিতেই সরকারপ্রধান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে শপথ নেওয়ার পর থেকেই সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা এবং সরকারি প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দ না নেওয়ার মতো মিতব্যয়ী সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
একাধিকবার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উত্থাপন করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর অনীহার কারণে তা আর সামনে এগোয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর এই বেতন বৈসাদৃশ্য দেখতে কিছুটা বেমানান মনে হলেও সরকারের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা না দিলে অদূর ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীদের সম্মানী বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।