৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রোধে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দফায় তিন লাখ টন ও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও লাখ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে মস্কো। তবে ২০২২ সালের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও পুতিনকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথম দফায় তিন লাখ টন এবং পরবর্তীতে নভেম্বরে পাঁচ লাখ টনসহ মোট ৩০ লাখ টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছেন।
- চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ C হিসেবে আগামী ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
- রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও ডেমোক্র্যাট জিন শাহিনসহ সাতজন আইনপ্রণেতা যৌথ বিবৃতিতে এই চুক্তিকে ২০২২ সালের মার্কিন আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট ও দাম বৃদ্ধির জেরে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ঘোষিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মস্কো প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাজারে তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পরের ধাপে নভেম্বরে পাঁচ লাখ টন, এরপর ১০ লাখ টন এবং পরবর্তীতে স্বল্প সময়ে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত রুশ তেল শোধনাগারগুলোর বর্তমান কর্মক্ষমতার ওপর।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক আরোপসংক্রান্ত আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে এবং জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে এটি জরুরি। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, যদিও রুশ রাষ্ট্রীয় ও ব্যাংকিং খাতের অন্যান্য সম্পদ জব্দ রাখার সিদ্ধান্ত বলবৎ রয়েছে। বর্তমান বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী প্রতি গ্যালন ডিজেল ৬.২৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা ভোটারদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।
রাশিয়ার সঙ্গে এই তেল চুক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। গত রোববার চারজন রিপাবলিকান ও তিনজন ডেমোক্র্যাটসহ মোট সাতজন মার্কিন সেনেটর এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য একটি 'পুরস্কার' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো আন্তর্জাতিক মিত্ররাও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার পরেও রাশিয়াকে আর্থিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।
আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখেই মূলত এই জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প, যাতে ভোটারদের অসন্তোষ কমানো যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোর কৃষক, পশুপালক ও ট্রাকচালকরা ডিজেলের চড়া দামের কারণে মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহার করায় রাশিয়ার প্রতিশ্রুত তিন লাখ টন ডিজেল বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত কি না। আসন্ন নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি মার্কিন ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।