৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার ৩ লাখ টন ডিজেল চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর আগে রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার ফলে জ্বালানি বাজারে দাম বাড়ায় জেলেনস্কির সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান এই মতবিরোধের মধ্যেই জেলেনস্কি আগামী বছর যুদ্ধ পরিচালনায় ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন ও পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি জানিয়েছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে हाल ہیতে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত চুক্তির আওতায় ৩ লাখ টন ডিজেল বিশ্ববাজারে সরবরাহের কথা রয়েছে, যা পুতিনের যুদ্ধের তহবিলে অর্থ জোগাবে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
- মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে বাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অনেক বেশি কঠিন।
- ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ সম্মেলনে জেলেনস্কি আগামী বছর যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো এবং প্রতিরক্ষা ও অস্ত্রের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সাম্প্রতিক ডিজেল চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই চুক্তি তিনি মেনে নিতে পারেন না। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ৩ লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহের কথা রয়েছে। জেলেনস্কির জোরালো অভিযোগ, এই বাণিজ্যিক চুক্তি সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধের তহবিলে অর্থ জোগান দিচ্ছে এবং তাঁর পকেটে আরও অর্থ তুলে দিচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ক্রমাগত হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। তাঁর মতে, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অনেক বেশি কঠিন, কারণ ইউক্রেনীয় নেতা মুখে সমঝোতার কথা বললেও বাস্তবে তা চান না। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ডিজেল চুক্তি বাস্তবায়নে এসব হামলা বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ব্রাসেলস সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলন চলাকালে জেলেনস্কি ইউরোপীয় কাউন্সিলকে জানান, আগামী বছর দেশটিতে যুদ্ধ সচল রাখতে মোট ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অস্ত্রের জন্য কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকেই অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা চান তিনি। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের ড্রোন উৎপাদনের বর্তমান সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় তিন গুণ বেশি থাকলেও অর্থের অভাবে সেই পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতিও যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মাঝেই স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে গতি সীমিত করার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, স্টারলিংকের গতি কমিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়ে ইউক্রেনে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী রুশ হামলা হয়েছে। এদিকে, খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর ২৬টি অঞ্চলে ৬৪৪টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এই বহুমুখী সংকটের মুখে ইউরোপের অবিচল সহযোগিতা ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ রণকৌশলে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Desh Tv-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।