৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বার্থকে সহায়তা করছে বলে গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে সতর্ক করেছেন সাংবাদিক জোনাথন ফ্রিডল্যান্ড। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি অপমানজনক আচরণ, স্টারলিংক ড্রোন প্রযুক্তির গতি সীমিত করা এবং প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের রুশ ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা নিয়ে বড় শঙ্কা তৈরি করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত সাংবাদিক জোনাথন ফ্রিডল্যান্ডের নিবন্ধ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের নির্দেশে ইউক্রেনের ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহৃত স্টারলিংক বা স্টারশিল্ড ব্যবস্থার গতি ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতির ড্রোনের ক্ষেত্রে সীমিত করা হয়েছে, যা সামরিক কার্যক্রমে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের রুশ ডিজেল তেল কিনেছে, যা মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে জেলেনস্কির হাতে দর-কষাকষির মতো কোনো তাস নেই, যা মার্কিন প্রশাসনের পরিবর্তিত অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতার পরিবর্তে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বার্থকেই মূলত এগিয়ে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রখ্যাত সাংবাদিক জোনাথন ফ্রিডল্যান্ডের এক নিবন্ধে এই শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে অনিশ্চয়তা এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ পশ্চিমা মিত্রদের কাছে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের অপমানজনক আচরণে স্পষ্ট হয়েছিল যে ওয়াশিংটন কিয়েভকে আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না। সে সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে জেলেনস্কির হাতে দর-কষাকষির কোনো তাস নেই। এরপর সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহৃত ইলন মাস্কের স্টারলিংক প্রযুক্তির একটি সংস্করণের গতি সীমিত করা হয়। হোয়াইট হাউসের নির্দেশেই ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিসম্পন্ন ড্রোনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় হামলা ও রাজধানী রক্ষায় কিয়েভের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
এর পাশাপাশি, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের রুশ ডিজেল তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা সতর্কতা জানানোর ধারাও ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপে একদিকে যেমন মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থভাণ্ডার শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিমা জোটের প্রধান শক্তির ভূমিকা নিয়ে গভীর আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের সময় এসেছে বলে সতর্ক করেছেন জোনাথন ফ্রিডল্যান্ড। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ট্রাম্পবাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা মাথায় রেখে ইউরোপকে এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক যুগান্তর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।