রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের একটি উচ্চপর্যায় প্রতিনিধিদল। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে তারা পরীক্ষামূলক চালুকরণ এবং গ্রিড সংযোগের সময়সীমা নির্ধারণসহ প্রযুক্তিগত নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতির বিশদ মূল্যায়ন করেন।
- প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক চালুকরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা।
- বাংলাদেশ ও রাশিয়ার যৌথ ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত প্রটোকল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। রোসাটমের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের এই দলটি সরাসরি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন ইউনিটের ফিজিক্যাল প্রোগ্রেস ও ইনস্টলেশন ওয়ার্ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রিয়াক্টর প্রেশার ভেসেল ও টারবাইন স্থাপনসহ সমস্ত মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে সিস্টেম টেস্ট এবং কমিশনিংয়ের কাজ চলছে। রোসাটমের প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে চুল্লিতে জ্বালানি বা নিউক্লিয়ার ফুয়েল লোডিংয়ের পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে রূপরেখা চূড়ান্ত করছেন।
বৈঠকে প্রকল্প পরিচালক এবং দেশি-বিদেশি প্রধান প্রকৌশলীরা জানান, পরমাণু চুল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই প্রতিটি ধাপ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী ফিজিক্যাল প্রোটেকশন সিস্টেম এবং কুলিং সিস্টেমের কার্যকারিতা ইতোমধ্যে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। রোসাটমের বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশ পূরণ হবে এবং শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।