৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"নড়াইলের খাল-বিলে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যাপক ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নিয়মিত অভিযানের পরও অসাধু জেলেরা অধিক মুনাফার লোভে এই জাল ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন। গত ১ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৎস্য বিভাগ জেলায় ২৪টি অভিযান চালিয়ে ২৯ হাজার মিটার জাল জব্দ ও ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চায়না দুয়ারি জাল সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ ফুট দীর্ঘ হয় এবং এর দাম মানভেদে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- গত ১ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নড়াইল জেলায় মৎস্য বিভাগ ২৪টি অভিযান পরিচালনা করে ২৯ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে।
- এই জালের সূক্ষ্ম ফাঁসের কারণে মাছের পোনা ও জলজ উদ্ভিদসহ সব ধরনের জীব আটকা পড়ে, যা প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নড়াইলের উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের আগ্রাসনে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। রুখালী, মাইজপাড়া, ইছামতী ও কলোড়ার বিলসহ জেলার প্রায় প্রতিটি খাল-বিলে এই মরণফাঁদ পেতে মাছ শিকার করছেন অসাধু জেলেরা। লোহার রড দিয়ে তৈরি ফ্রেম ও সূক্ষ্ম জালের সমন্বয়ে গঠিত এই ফাঁদটি নদীর তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, ফলে জোয়ারের পানিতে আসা ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী এতে আটকা পড়ে।
‘ম্যাজিক জাল’ হিসেবে পরিচিত এই জালটি চীন থেকে আমদানিকৃত সুতা দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। স্থানীয় জেলেরা জানান, সাধারণ জালের তুলনায় এতে পরিশ্রম কম এবং মাছ ধরা পড়ে অনেক বেশি। ৫০ থেকে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই জাল একবার পেতে রাখলে তা থেকে মাছের পোনা পর্যন্ত বের হতে পারে না। ফলে মাছের প্রজনন মৌসুমসহ সারা বছরই এই জাল ব্যবহার করে জলাশয়গুলোকে মাছশূন্য করে ফেলা হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত আড়াই মাসে ২৯ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হলেও স্থানীয়দের সচেতনতার অভাব ও অধিক মুনাফার লোভের কারণে এই জাল নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও জেলেরা পুনরায় এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারির অবাধ ব্যবহার অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে নড়াইলের প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো মাছের আকাল দেখা দেবে। জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কেবল প্রশাসনিক অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই জালের ব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।