পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) লাশ দাফন ও গার্ড অব অনারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা চত্বরে লাশ আনা হলে জামায়াত নেতারা বাধা দেন। পরে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা পর পুলিশ লাইন্সের ভেতরে তাকে গোপনে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মানিক পশারী পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী ছিলেন এবং তিনি একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।
- শনিবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৭ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর দুপুরে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার লাশ আনা হলে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাফন ও গার্ড অব অনারে বাধা দেন।
- পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে 'ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা' আখ্যা দিয়ে পিরোজপুরের মাটিতে তার লাশ দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং পরে প্রশাসন বাধ্য হয়ে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গোপনে তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী এবং গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয় দুপুর ১২টার দিকে, যাতে তাকে যথাযথ নিয়মে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার প্রদান করা যায়। কিন্তু স্থানীয় জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বাধা সৃষ্টি করেন। এর ফলে অ্যাম্বুলেন্সেই দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে ৮৭ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ। নিহতের পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রশাসনের শরণাপন্ন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর সুরক্ষা বা দাফনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে পিরোজপুর সদর থানা ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সের সুনির্দিষ্ট সুরক্ষিত চত্বরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মরহুম মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। নিহতের জামাতা ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের সহায়তায় কোনোমতে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হলেও দাফনের বিষয়ে প্রশাসন কোনো দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে এই ঘটনার পর স্থানীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশ্যে মানিক পশারীকে একজন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে ঘোষণা দেন যে তাকে পিরোজপুরের মাটিতে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার বা দাফন করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে যে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল মেনেই গার্ড অব অনার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।