মহেশখালীতে সামিটের বন্ধ থাকা এলএনজি টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটিয়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গৃহস্থালি খাতে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টার্মিনাল চালুর ফলে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের মালিকানাধীন ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
- টার্মিনালটি সচল হওয়ার ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সার্বিক জ্বালানি সংকট কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
- পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (রুপজিসিএল)-এর তত্ত্বাবধানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সার কারখানায় উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের লিকুইডফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট নিরসন হয়ে জাতীয় গ্রিডে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে টার্মিনালের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর সফলভাবে গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন বা পুনঃগ্যাসীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সামিটের এই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ভয়াবহ গ্যাস ঘাটতি দেখা দেয়। বিকল্প ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ সীমিত রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ মেরামতের পর টার্মিনালটি পুনরায় যুক্ত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল চালুর পর থেকে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকা অঞ্চলের বড় বড় শিল্প কারখানায় গ্যাসের যে আংশিক রেশনিং বা সংকট চলছিল, তা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরোপুরি দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পিক-আওয়ারে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামিটের টার্মিনাল সচল হওয়ায় সাময়িকভাবে দেশের আমদানীকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থবিরতা কেটে গেল। শীতের মৌসুম শুরুর আগে এই টার্মিনাল চালু হওয়া দেশের সার্বিক অর্থনীতি, কলকারখানার উৎপাদনশীলতা এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।