শেকৃবির স্থায়ী ক্যাম্পাসের বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সয়েল টেস্টিং ও নির্মাণকাজের প্রতিবাদে তারা মাঠে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড, গেট ও যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করেন এবং দুটি গাড়ি জব্দ করেন। শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবহারের জন্য দ্রুত উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্টিং বা মাটি পরীক্ষার কাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেন।
- আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মাঠ থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত এই জায়গাটি সচিবালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে মাঠ পুনরুদ্ধার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও মাঠ পুনরুদ্ধার আন্দোলনের মুখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা। বাণিজ্য মেলার পুরোনো মাঠে নতুন সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। এরই অংশ হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে তারা মাঠের ভেতরে যেকোনো ধরনের সরকারি কার্যক্রম প্রতিহত করে আসছেন এবং সম্প্রতি নির্মাণকাজের প্রস্তুতি হিসেবে চলা সয়েল টেস্টিংয়ের কাজে সরাসরি বাধা প্রদান করেন।
ঘটনার দিন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠের গেটে ভাঙচুর চালান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থাপন করা সাইনবোর্ডটি জোরপূর্বক খুলে ফেলেন। এ সময় তারা মাঠের ভেতর থেকে নির্মাণকাজের জন্য আনীত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এই ঐতিহাসিক মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও পঠন-পাঠনের পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা কোনোভাবেই হাতবদল হতে দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক ও জোরালো প্রতিবাদের মুখে গণপূর্ত বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত মাঠ রক্ষার এই আন্দোলন চলবে। তারা অবিলম্বে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন বা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে মাঠটি শেকৃবি শিক্ষার্থীদের নামে স্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের ফলে সৃষ্ট ট্রাফিক জ্যাম, পরিবেশগত প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি কীভাবে সমাধান করে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে কতটা অনড় থাকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।