৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ও গ্রাফিতি সড়কে পার্কিং করা গাড়ি ও পিকআপের কারণে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে ফেলা এবং পরবর্তীতে দেশবরেণ্য গুণীজন বেগম রোকেয়া, জসীমউদ্দীন ও জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি অাঁকা হলেও যত্রতত্র গাড়ি রাখার ফলে সাধারণ পথচারী ও শিল্পপ্রেমীরা দৃশ্যমানতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতির সামনে সড়কে অবৈধ ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে বেগম রোকেয়া, জসীমউদ্দীন ও জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতিগুলো পুরোপুরি ঢেকে যাচ্ছে।
- এর আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে ফেলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার পর কর্তৃপক্ষ নতুন করে এই বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি অঙ্কন করে।
- বাড্ডা ও সেগুনবাগিচা এলাকার এই দেয়ালচিত্রগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্য রক্ষায় এবং জনগণের দেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার ঐতিহাসিক ও নান্দনিক দেয়ালচিত্রগুলোর সামনে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতিগুলো আড়ালে চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই দেয়ালগুলোতে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এবং আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম পুরোধা জীবনানন্দ দাশের গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়। কিন্তু সড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গাড়ি এবং পিকআপ পার্কিং করে রাখার ফলে সাধারণ পথচারী ও শিল্পানুরাগী দর্শনার্থীরা এই শিল্পকর্মগুলো উপভোগ করতে পারছেন না।
এর আগে একই দেয়াল থেকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে ফেলার ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেই প্রতিবাদের মুখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং সঞ্জীব চৌধুরীর স্মৃতির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বরেণ্য সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারকদের প্রতিকৃতি পুনরায় দেয়ালে স্থান দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে গ্রাফিতিগুলো অাঁকা হলেও ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে তা জনসাধারণের চোখের সামনে উন্মুক্ত থাকছে না।
বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সঞ্জীব দা কিংবা আমাদের জাতীয় গুণীজনরা মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরূক থাকলেও তাদের স্মারক প্রতিকৃতিগুলো এভাবে অবহেলা ও যানবাহনের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং ট্রাফিক নিয়মের কড়াকড়ি না থাকায় ঐতিহাসিক এই দেয়ালচিত্রগুলোর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
রাজধানীর সৌন্দর্যবর্ধন এবং দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের দেয়ালচিত্রের চারপাশ অবৈধ দখলমুক্ত রাখা জরুরি। অবিলম্বে সেগুনবাগিচার এই সড়কটিতে যানজট নিরসন ও গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতিগুলো সর্বসাধারণের দৃশ্যমান করার দাবি জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।