জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) যোগ দিতে আগামীকাল মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে তিনি দুটি পৃথক পর্বে বক্তব্য দেবেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বাংলাদেশ সম্মেলনে অনুদানভিত্তিক পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সহজলভ্য সহায়তার দাবি জানাবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে তিন দিনের সফরে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ১১ ও ১২ নভেম্বর কপ-৩১ এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
- পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সম্মেলনে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অনুদান বৃদ্ধি এবং ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকা হারানোর ক্ষতি মোকাবেলায় সহজলভ্য অনুদান দাবি করবে।
- এবারের কপ-৩১ সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুতায়ন ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা, মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস এবং ভবন নির্মাণ খাতে শক্তির ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আজ সোমবার ভূমধ্যসাগরের তীরে তুরস্কের পর্যটননগরী আনতালিয়ার এক্সপো সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-৩১)। বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতির এই সর্ববৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে আগামীকাল মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে ঢাকা ছাড়ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে থাকছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সোহাগ আওয়াল, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন এবং দুটি পৃথক পর্বে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এবারের কপ-৩১ সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুতায়ন ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা, মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস এবং ভবন নির্মাণ খাতে শক্তির ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর মতো সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে বিশ্বনেতারা আলোচনা করছেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ এবারের সম্মেলনে নিজেদের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় ও খরাপ্রবণ অঞ্চলের মানুষ মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।
পরিবেশ ও জলবায়ুবিদদের মতে, বিগত বিভিন্ন কপ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের গতি সন্তোষজনক ছিল না। তাই এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঋণের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে পর্যাপ্ত অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের জোরালো দাবি জানাবে। বিশেষ করে উপকূল, হাওর, চর ও খরাপ্রবণ অঞ্চলের নিরাপত্তা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পরিচালিত অভিযোজনে উন্নত দেশগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকা হারানোর মতো অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে সহজলভ্য অনুদান ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দাবি উত্থাপন করা হবে।
সফর শেষে আগামী ১২ নভেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর দেশের উদ্দেশে তুরস্ক ত্যাগ করার কথা রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এবারের কপ-৩১ সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানকার সিদ্ধান্তগুলোর ওপরই নির্ভর করছে বিপন্ন মানবতার ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায্যতা। প্রধান কার্বন নির্গমনকারী উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কতটা এগিয়ে আসে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পথ বের হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও স্পষ্ট দাবি বিশ্বমঞ্চে দেশের পরিবেশগত কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।