১৭ ইনিংস পর টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি পাওয়ার পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না বাংলাদেশ দলের ওপেনার সাদমান ইসলাম। মিরপুর টেস্টে শতক হাঁকানোর পর তিনি নিজের ভুলত্রুটি শুধরে ইনিংসকে আরও বড় অর্থাৎ ১৫০ থেকে ২০০ রানে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ফিটনেস ও ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে কাজ করে এই সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৭ টেস্ট ইনিংস পর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনার সাদমান ইসলাম, যা দলের টপ অর্ডার ব্যাটারদের বাজে ফর্মের মাঝে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
- সালাহউদ্দিন স্যার এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের পরামর্শ নিয়ে নিজের ফিটনেস ও ব্যাটিংয়ের ঘাটতি দূর করতে সম্প্রতি নিবিড় অনুশীলন করেছেন সাদমান।
- তৃতীয় দিন শেষে সফরকারীদের চেয়ে বাংলাদেশ ১৩৮ রানে এগিয়ে থাকলেও প্রথম ইনিংসে লিড নিতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের স্পিন আক্রমণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ খরা ও ১৭টি ইনিংসের অপেক্ষা পেরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে শতক পাওয়ার পর কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে নিজের ইনিংসকে আরও দীর্ঘ ও বড় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ দল মাত্র ৫৯ রান তুলতেই হাতে থাকা শেষ সাতটি উইকেট হারিয়ে বসে। দলের এমন ব্যাটিং ধসের দিনেও সাদমানের এই শতরান ইনিংসটি দলের ইনিংসে বড় ভূমিকা রাখে। তবে নিজের ইনিংসটি আরও বড় করতে না পারার আক্ষেপও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।
গত তিন বছরের টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনারদের রান সংগ্রহের তালিকায় ৭ নম্বরে অবস্থান করা সাদমান এর আগে আটটি ফিফটি পেলেও সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছিলেন না। ভালো শুরু পেয়েও নির্দিষ্ট একটি জায়গায় গিয়ে আউট হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে তিনি ফিটনেস ও ব্যাটিং টেকনিকের ঘাটতিকে চিহ্নিত করেন। এই সমস্যা সমাধানে তিনি কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এবং সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের শরণাপন্ন হন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনেন, যার সুফল তিনি এই ইনিংসে হাতেনাতে পেয়েছেন।
এদিকে, মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে খেলাটি বেশ রোমাঞ্চকর এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সফরকারী দলের চেয়ে বাংলাদেশ দল বর্তমানে ১৩৮ রানে এগিয়ে থাকলেও ক্যারিবিয়ানদের হাতে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে ছয়টি উইকেট। ম্যাচের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রথম ইনিংসে নিরাপদ লিড নিশ্চিত করার জন্য দলের অভিজ্ঞ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ওপরই ভরসা রাখছেন সাদমান। বোলাররা যদি নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের পক্ষেই থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টেস্ট ওপেনিং জুটি নিয়ে নানামুখী সমালোচনা ও আস্থার সংকটের মাঝে সাদমানের এই শতরান কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং দলের টপ অর্ডারে স্থায়িত্ব আনার ক্ষেত্রেও বড় একটি বার্তা। ভবিষ্যতে নিজের ইনিংসগুলোকে ১৫০ বা ২০০ রানের কোঠায় নিয়ে যাওয়ার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা জাতীয় দলের সামগ্রিক স্কোরকে চারশো থেকে পাঁচশো রানের নিরাপদ ঠিকানায় পৌঁছাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।