সিফাতকে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"গাজীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহ। ওই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর জেরে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে আটক করে গাছা থানা পুলিশ। তবে মানহানির বদলে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তি করে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহ।
- গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের গাছা থানা পুলিশ তাকে নিজ বাসা থেকে আটক করে এবং পরদিন আদালতে প্রেরণ করে।
- কটূক্তির অভিযোগ থাকলেও মানহানি বা ডিজিটাল আইনের বদলে তাকে পূর্বের একটি সন্ত্রাসবিরোধী বা সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের জেরে গাজীপুরে সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক কলেজশিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে কটূক্তি ও গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে কটূক্তির অভিযোগে আটক করা হলেও তাকে সন্ত্রাস দমন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে জনমনে এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সিফাত আব্দুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে তার বাসা থেকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিফাত তার প্রকাশিত ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দাবি করেন যে, তার বাসায় আগের মাসে ৫ হাজার এবং চলতি মাসে ৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত বিলের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়েই তিনি ভিডিওটিতে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরই তাকে আটক করা হয়।
গাছা থানার পুলিশ জানায়, আটকের পর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গাছা থানার তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে সিফাতের বিরুদ্ধে কটূক্তি বা মানহানির কোনও মামলা দেওয়া হয়নি। এর বদলে তাকে পূর্বের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে চাওয়া হতে পারে। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের জেরে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর সন্ত্রাস দমন ধারায় মামলা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার DW.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।