চলতি বছরের মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে রুপোর দাম প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি প্রতি কেজি রুপোর দাম ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৩২ টাকা থাকলেও, ২৩ অক্টোবর তা কমে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৭০ টাকায় নেমে এসেছে। মূলত মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের শেয়ারে চাপ, মুনাফা তুলে নেওয়া এবং সরকারের আমদানির নীতির প্রভাব বাজারে পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি এক কেজি রুপোর দাম ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৩২ টাকা ছিল, যা ২৩ অক্টোবর কমে প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং মাত্র ১০ দিনে খুচরো বাজারে ১৫ হাজার টাকা দরপতন হয়েছে।
- ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর এক কেজি রুপোর দাম ৬৪ হাজার ৪৯৬ টাকা থাকলেও গত ৫ বছরে দাম প্রায় ২১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রুপো আমদানির শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয় এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসন্ন ৬ মাসে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টন রুপো আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় bullion বাজারে রুপোর দামে এক নজিরবিহীন পতন লক্ষ করা গেছে। চলতি বছরের শুরু অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি প্রতি কেজি রুপোর দাম যেখানে ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৩২ টাকায় পৌঁছেছিল, তা ২৩ অক্টোবর এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৭০ টাকায়। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে এই মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া, গত ১৪ অক্টোবর খুচরো বাজারে এক কেজি রুপোর দাম ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা থাকলেও মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তা ১৫ হাজার টাকা কমে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় নেমে আসে।
রুপোর এই আকস্মিক দরপতনের পেছনে কাজ করেছে বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কারণ। তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার সংক্রান্ত উদ্বেগ এই বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীরা তাঁদের মুনাফা ঘরে তুলতে রুপো বিক্রি করে দিয়েছেন। ভারতের বাজারে এর অতিরিক্ত প্রভাব রয়েছে, কারণ দেশটি তার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি রুপো বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। সরকার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় একসময় বাজারে সরবরাহে তীব্র টান পড়েছিল।
তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে যখন রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, আগামী ৬ মাসে প্রায় ৬,৫০০ টন রুপো আমদানির অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। বাজারে এই সুনির্দিষ্ট তথ্য পৌঁছানোর পরেই জোগান বৃদ্ধির আশায় ব্যবসায়ীরা সজাগ হন। অন্যদিকে, আমেরিকার বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন না মেলায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা লোকসান সামাল দিতে রুপো বিক্রি শুরু করেন। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে ভারতীয় বাজারেও, যার ফলে বিশ্বজুড়ে রুপোর মূল্যের এই বড় অংকের পতন ঘটে।
যদিও সাম্প্রতিক এই পতন বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় ফেলেছে, তবুও পাঁচ বছরের দীর্ঘ মেয়াদী পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলে। ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর এক কেজি রুপোর দাম যেখানে ছিল ৬৪ হাজার ৪৯৬ টাকা, সেখানে বর্তমান দাম এখনও তার প্রায় তিন গুণেরও বেশি। বর্তমান বাজারে এআই ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সোলার প্যানেল তৈরিতে রুপোর অপরিহার্য চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাময়িক দরপতন ঘটলেও প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে এই বহুমুখী ধাতুর দীর্ঘমেয়াদী বাজার সম্ভাবনা ও গুরুত্ব অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।