সৌদি আরবের রিয়াদ, মক্কা ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সৌদির তেল ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সাতটি বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে। এই হামলার ফলে মক্কায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে আকাশে ধ্বংস ও প্রতিহত করেছে।
- হুতি বিদ্রোহীরা সৌদির বিভিন্ন কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মোট সাতটি পৃথক ও সমন্বিত হামলা চালানোর আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে।
- হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কা ও জেদ্দা শহরে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছে এবং রিয়াদ শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, পবিত্র নগরী মক্কা এবং বন্দরনগরী জেদ্দায় নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামলায় হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া না গেলেও মক্কা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এসে পড়েছে।
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো এবং সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে সাতটি বড় ধরনের বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। তাদের অস্ত্রভান্ডারে থাকা উন্নত প্রযুক্তির এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদির জ্বালানি খাত ও তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি হঠাৎ অবনতি হওয়ায় দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মক্কা ও জেদ্দায় উচ্চ সতর্কবার্তা বা 'সম্ভাব্য বিপদের' অ্যালার্ট জারি করেছে। রিয়াদের বাসিন্দারা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেন সংকটের দীর্ঘায়িত সমাধান না হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই চলমান সংঘাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সৌদির তেলের স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্ববাজারে এর জেরে তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার ঝুঁকিও রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।