প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফর করছেন। তিনি মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করবেন। এদিকে, অভাবের তাড়নায় গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া আঁখি নামের এক নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশনায় পরিবারটিকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসাব্যয় বহন ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
- সফরকালে তিনি বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ কার্যক্রম, বানৌজা মোংলা এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন এলাকা বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে পরিদর্শন করবেন।
- অভাবের কারণে গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া আঁখির পরিবারের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং সন্তান প্রসবের চিকিৎসাব্যয় ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সফরে খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় অবস্থান করছেন। সফরকালে তিনি মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করে আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলায় পৌঁছান তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, বানৌজা মোংলার ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় অংশগ্রহণের পর বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম এবং জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখে বিকেল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে মোংলা হেলিপ্যাড ত্যাগ করবেন এবং বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিন স্তরের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ শীর্ষক একটি হৃদয়বিদারক সংবাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, চরম অভাব ও অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে এবং ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে তৃতীয়বারের মতো মা হতে যাওয়া ওই নারী অনাগত সন্তান বিক্রির কথা ভেবেছিলেন। সংবাদটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারটির সন্ধান পাওয়া যায় এবং গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আঁখির পরিবারকে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, অনাগত সন্তানের প্রসবের যাবতীয় চিকিৎসাব্যয় বহন এবং পরিবারের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।