সরকারি দপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে দিয়েছে অর্থ বিভাগ। মূলত ব্যয় সংকোচন নীতি এবং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নিয়োগের ছাড়পত্র দিলেও অর্থ বিভাগের আপত্তিতে আটকে আছে কয়েক ডজন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার শূন্যপদ থাকলেও অর্থ বিভাগ নতুন করে নিয়োগের ছাড়পত্র প্রদান স্থগিত রেখেছে।
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে অর্থছাড় না পাওয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
- সরকারি দপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় এক লাখ শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি দপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় এক লাখ শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দিলেও অর্থ বিভাগের কঠোর অবস্থানের কারণে তা আটকে গেছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে সরাসরি নিয়োগের পরিবর্তে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে এই জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো প্রকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ব্যয় কমাতে এবং পেনশন ও বেতন-ভাতার দীর্ঘমেয়াদী চাপ সামলাতে নতুন করে স্থায়ী জনবল নিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী ও গাড়িচালকের মতো পদগুলোতে সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা ক্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তবে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সরাসরি নিয়োগের দাবিতে অনড় থাকায় অর্থ বিভাগ তাদের প্রস্তাবগুলো ফেরত পাঠাচ্ছে, যার ফলে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরে ৩ লাখের বেশি পদ শূন্য রয়েছে, যার একটি বড় অংশই তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির। চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় নিয়োগ বন্ধ থাকলে সরকারি সেবা প্রদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে অর্থ বিভাগ মনে করছে, ঢালাও নিয়োগের ফলে বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কাম্য নয়।
এই অচলাবস্থা নিরসনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদি দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তবে অনেক প্রার্থীর আবেদনের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আউটসোর্সিং নীতিমালা সংশোধন অথবা বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি নিয়োগের অনুমতি প্রদানের বিষয়টি সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।