স্ত্রী, কন্যা, শ্যালিকা ও ভাগ্নির নগ্ন ভিডিও গোপনে ধারণ করে আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি সাইটে বিক্রির অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সাইবার পুলিশ। পারিবারিক সম্পর্কের অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কনটেন্ট তৈরি ও বিপণনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সাইবার পুলিশের বিশেষ অভিযানে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিনকে ডিজিটাল আলামত, মেমরি কার্ড ও স্মার্টফোনসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
- অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা, শ্যালিকা ও ভাগ্নির আপত্তিকর ফুটেজ আন্তর্জাতিক পর্নো ওয়েবসাইটে বিক্রি করে বিপুল অর্থ লেনদেন করতেন।
- ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পারিবারিক সম্পর্কের চরম অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রী, কন্যা, শ্যালিকা ও ভাগ্নির আপত্তিকর ও নগ্ন ভিডিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে বিক্রি করার অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সাইবার মনিটরিং টিমের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ডিজিটাল আলামতসহ তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্তের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন, মেমরি কার্ড ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়েছে, যাতে বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর ভিডিও সংরক্ষিত ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিবারের নারী সদস্যদের অজান্তে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করে এবং বিভিন্ন কৌশলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করতেন। পরবর্তীতে এসব কনটেন্ট বিভিন্ন বিদেশি ও দেশীয় নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে চড়া মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। সাইবার স্পেসে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে সাইবার পুলিশ ইউনিট এই চক্রটির সন্ধান পায় এবং অর্থ লেনদেনের ট্র্যাকিং ও আইপি অ্যাড্রেস শনাক্তের মাধ্যমে মূল হোতা গিয়াস উদ্দিনের অবস্থান নিশ্চিত করে।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার ব্যবহৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে বিদেশি ডোমেইন থেকে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পেরে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় সাইবার অপরাধ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাইবার জগতে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলমান থাকবে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্ল্যাকমেলিং ও ডিজিটাল নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করতে ভুক্তভোগীদের অবিলম্বে হেল্পলাইন বা নিকটস্থ পুলিশ ইউনিটে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।