ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সংগঠনটি শ্রমিকদের ১৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বুধবার বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে টিএসসি থেকে শুরু হওয়া মিছিলে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা-কর্মীরা শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার ও ২০২৪ সালের ১৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
- সমাবেশে বক্তারা ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বকেয়া বেতন ও মজুরি আন্দোলনে শ্রমিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত না করার আহ্বান জানান।
- নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, চাকরির নিরাপত্তা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘শহীদ তৌফিক হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘শ্রমজীবী জনতার সঙ্গে একাত্ম হও’ স্লোগান সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে ছাত্র মৈত্রীর নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের বর্তমান দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালে ন্যূনতম মজুরি আন্দোলনের সময় দুই শ্রমিক এবং ২০২৪ সালে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনেও শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলোকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন। বক্তারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি, যা অমানবিক।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ১৮ দফা চুক্তি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। তৌফিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচিটি ছাত্র-শ্রমিক সংহতির এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। সরকার যদি দ্রুত ১৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু না করে, তবে ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন আরও বেগবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।