আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণকালে প্রসিকিউশনের এক সদস্যের ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ’ মন্তব্য ঘিরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রবিবার (৮ নভেম্বর) বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ শান্ত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে রবিবার (৮ নভেম্বর) সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৩ নম্বর সাক্ষীর জেরা চলছিল।
- জেরার এক পর্যায়ে সাক্ষীর আচরণ নিয়ে প্রসিকিউশনের এক সদস্য ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্য করলে আসামিপক্ষের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় এটিকে ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র আপত্তি জানান।
- গত ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১, যার মধ্যে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও হত্যাযজ্ঞের প্ররোচনার অভিযোগ রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আকস্মিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রবিবার (৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে ১৩ নম্বর সাক্ষীকে জেরা করার সময় প্রসিকিউশনের এক সদস্যের একটি মন্তব্য কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। আসামিপক্ষে সাক্ষীকে জেরা করছিলেন আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়, সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। অপরদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, গাজী এমএইচ তামিম ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের জুলাই মাসের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ ও হাইকোর্টের একটি রায় নিয়ে সাক্ষীকে প্রশ্ন করার সময়। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের স্মারকলিপি প্রদান এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগে আবেদনের বিষয়টি নিয়ে সাক্ষীর কাছে জানতে চান আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। সাক্ষী জানান যে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের ‘মনভোলানো কৌশল’ ছিল সেটি। এরপর জেরা চলাকালে প্রসিকিউশন থেকে বারবার আপত্তি তোলা হলে আসামিপক্ষ অভিযোগ করে যে, প্রসিকিউশনের দাঁড়ানো বা হস্তক্ষেপের কারণে সাক্ষীর মনোযোগ সরে যাচ্ছে। একপর্যায়ে কাঠগড়ায় বসা সাক্ষীকে আসামিপক্ষ প্রসিকিউশনের দিকে মুখ ফিরিয়ে জবাব দিতে বললে সাক্ষী চেয়ার ঘুরিয়ে নেওয়ার উপক্রম করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রসিকিউশনের একজন সদস্য মন্তব্য করে বসেন, ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’। এই মন্তব্যকে আসামিপক্ষের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় প্রকাশ্য ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং দুই পক্ষকেই কঠোরভাবে শান্ত ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় পুনরায় জেরা শুরু করেন। জেসুয়্যারের জবাবে সাক্ষী জানান যে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি সহিংসতা না হলেও বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আদালত এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেন।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলোতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে মূল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাদের ফোনালাপের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই কারফিউ জারি, ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাযজ্ঞ, ২৮ জুলাই মারণাস্ত্র ব্যবহার, ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এ ১২ জনকে হত্যা এবং ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে ১৬ জনকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। বিচার প্রক্রিয়ার এমন একটি সংবেদনশীল পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল কক্ষের ভেতর এই ধরনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও মন্তব্য বিচারিক পরিবেশ এবং মামলার সামগ্রিক কার্যক্রমে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।