এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার নাটকীয়ভাবে কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। তবে ফলাফলে পাসের দিক থেকে ছাত্রীরা ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ নীতিমালার আওতায় এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার রেকর্ড কমে দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশে, যা বিগত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
- সারাদেশে মোট ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি, যা শিক্ষাব্যবস্থার মানের বড় অবনতি নির্দেশ করে।
- ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে এবং এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর দেশজুড়ে গড় পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২.১২ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের ইতিহাসেও সর্বনিম্ন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। করোনা পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কঠোরতার কারণে এমন ফলাফল এসেছে বলে প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর দেশের মোট ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শতভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে শূন্য পাস করা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও একাডেমিক তদন্ত শুরু করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সামগ্রিক পাসের হারে ছাত্ররা পিছিয়ে থাকলেও ছাত্রীরা তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল করে এগিয়ে রয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তাদের জন্য বিশেষ বিবেচনা বা সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার রোধে অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কার এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
এই বিপর্যয়কর ফলাফলের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক শ্রমবাজারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন পাসের হার এই তলানিতে এসে ঠেকলো, তার গভীরে গিয়ে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা জরুরি। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার পরিসর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।