সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভারত থেকে সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘ডিজিপে’কে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়। ডিজিপে ২০২৩ সালের আগস্টে লাইসেন্স পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এনপিএসবি-ভিত্তিক লেনদেন বন্ধ থাকলেও অন্যান্য সেবা সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতা এবং ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৯ অক্টোবর ডিজিপেকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
- ডিজিপের এমডি রাশেদ মাহমুদ জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি পদের জন্য আলাদা কর্মী নিয়োগ ও কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল দাবি করেছিল, যা তাদের জন্য বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল।
- ডিজিপে সার্ভিসেস লিমিটেড দীপন গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যা ২০২৩ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে লাইসেন্স গ্রহণ করে পয়েন্ট অব সেল ও ই-কমার্স সেবা প্রদান করে আসছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘ডিজিপে’র ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়। এর ফলে এনপিএসবির মাধ্যমে পরিচালিত ডিজিপের সকল আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের অন্যান্য পেমেন্ট সেবাগুলো এখনো সচল রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে এবং গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো ডিজিপের সার্ভারে ভারত থেকে প্রবেশের সুযোগ থাকা এবং ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনায় জনবল সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি পদের জন্য আলাদা কর্মী নিয়োগ এবং মাইক্রোসফটের নির্দিষ্ট নিরাপত্তাপণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছিল। ডিজিপে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা লাইসেন্স কিনেছে, তবে ভারতীয় ডেভেলপারদের সিস্টেমে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে তাদের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
ডিজিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, তাদের সিস্টেম ভারতের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) দল তৈরি করেছে এবং শুধুমাত্র উন্নয়ন কাজের জন্যই ডেভেলপারদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেন উন্নয়নের কাজ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাশেদের মতে, বর্তমানে জনবল কাঠামো নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা পূরণ করা তাদের জন্য অবাস্তব। এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ডিজিপে সার্ভিসেস লিমিটেড দীপন গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যারা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে লাইসেন্স পায়। এনপিএসবি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত দেশের প্রধান আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক। এই ঘটনার ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের নিরাপত্তা ও বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি পুনরায় সামনে এলো, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।