লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ভারতে প্রবেশ প্রায় বন্ধ, শেরপুর সীমান্ত আটকে পড়া হাতিগুলোর কী হবে?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 26 অক্টোবর 2026, 06:11 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 20 বার পঠিত
ভারতে প্রবেশ প্রায় বন্ধ, শেরপুর সীমান্ত আটকে পড়া হাতিগুলোর কী হবে?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো পাহাড়ে আটকা পড়েছে ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও কাজুবাদাম চাষের কারণে এই ক্রস-বাউন্ডারি হাতিগুলো নিজ আবাসস্থলে ফিরতে পারছে না। ফলে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকটে হাতিগুলো লোকালয়ে নেমে আসছে, যা দুদেশের কূটনৈতিক পর্যায়েও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের হাতির যাতায়াতের জন্য অতীতে ৪৪টি গেট ও ১১টি নদীপথ থাকলেও বর্তমানে তা কার্যকর নয়।
  • প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন-এর তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগেও এই অঞ্চলে মাত্র ৫০টির মতো হাতি থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
  • ভারতের মেঘালয় অংশে কাঁটাতারের বেড়া ও কাজুবাদামের চাষাবাদ বাড়ায় এবং বাংলাদেশ অংশে বনভূমি দখল ও ফসলি জমিতে বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দেওয়ায় হাতি ও মানুষের সংঘাত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ভারতের সাথে সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া ও নানা প্রতিবন্ধকতায় আটকা পড়ে আছে ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি। শেরপুরসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো পাহাড়ের বনে দীর্ঘদিন ধরে এই ক্রস-বাউন্ডারি হাতিগুলো আটকে রয়েছে। বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তবর্তী প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অতীতে হাতি চলাচলের ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়াপথ ছিল। এসব পথ ব্যবহার করে হাতিগুলো দুই দেশেই অবাধে বিচরণ করত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মেঘালয় অংশে সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া ও গেট নির্মাণ করায় এবং ভারতীয় অংশে কৃষকদের কাজুবাদাম চাষ বেড়ে যাওয়ায় হাতিগুলোর চলাচলের পথ সম্পূর্ণ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে বেশিরভাগ হাতিই বাংলাদেশ অংশে স্থায়ীভাবে আটকা পড়েছে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক দশক আগে এই অঞ্চলে হাতির সংখ্যা প্রায় ৫০টি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে পৌঁছেছে।

এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই জটিলতা সহজে সমাধান করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ অংশেও বনের জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ এবং স্থানীয়দের দেওয়া বৈদ্যুতিক তারের বেড়ায় বহু হাতি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

একটি বন্য এশীয় হাতির প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং সমপরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে বনে খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় এই হাতিগুলোর দল নিয়মিত লোকালয়ে নেমে আসছে। এতে একদিকে যেমন বন্য হাতির জীবন বিপন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের ফসল ও বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে, যা দুই দেশের যৌথ ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ