বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আগামী বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপাটলার মধ্যে ল্যান্ডফল করতে পারে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় এর বাতাসের গতিবেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় ও পশ্চিমের জেলাগুলোতে আবহাওয়া বদলাবে এবং বুধ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঘূর্ণিঝড়টি আগামী বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপাটলার উপকূলের মধ্যবর্তী স্থানে ল্যান্ডফল করবে এবং স্থলভাগে ঢোকার সময় এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়া ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৭৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে যা ক্রমান্বয়ে শক্তি বৃদ্ধি করছে।
- ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও, এর প্রভাবে আগামী বুধ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং উপকূল অঞ্চলে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে আসন্ন বুধবার একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে চলেছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর বা মৌসম ভবন জানিয়েছে, এই ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপাটলার মধ্যবর্তী কোনো স্থানে উপকূল অতিক্রম বা ল্যান্ডফল করবে। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়টির মূল গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে এবং এর দমকা বা গাস্টিং উইন্ড স্পিড সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিজ্ঞানীরা।
গত ছয় ঘণ্টা ধরে গভীর নিম্নচাপটি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৭৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হতে পারে এবং প্রবেশের পর এটি ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করবে। তবে এর প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ব্যাপক আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সরাসরি ল্যান্ডফলের আশঙ্কা না থাকলেও রাজ্যজুড়ে এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক ও রোদোজ্জ্বল থাকলেও মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলো এবং পশ্চিমের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় এর প্রভাব বেশি অনুভূত হবে।
মৌসম ভবনের সতর্কবার্তার পর রাজ্য প্রশাসনগুলোকে ইতিমধ্যে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বুধবার বিকেলের দিকে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। কৃষিকাজ, মৎস্যজীবী কার্যক্রম এবং সাধারণ জনজীবনে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।