বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ভারতের অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে সতর্কতা জারি করে হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও উপকূলীয় অঞ্চলে এর প্রভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা এটিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণিতে উন্নীত করেছে।
- ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD) অন্ধ্র উপকূলের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারত সরকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করেছে ভারত, যার অর্থ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপগুলো দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, মুরাসু’র ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। অন্ধ্র ও ওড়িশার নিচু এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ভারতের দিকে হওয়ায় বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা কম। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ এশিয়ার উপকূলীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কৃষি ও মৎস্য খাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার পর এর গতিপথ ও শক্তি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের উত্তাল পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।