সরকারি ভর্তুকিতে পরিচালিত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলো তীব্র আর্থিক সংকট ও লোকসানের মুখেও কর্মীদের নিয়মিত ‘প্রফিট বোনাস’ প্রদান করায় তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি নিয়ে চলার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন আর্থিক সুবিধা বিতরণ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো সরকারের বিশাল অংকের আর্থিক ভর্তুকি ও ঋণের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও কর্মীদের প্রফিট বোনাস দেওয়া অব্যাহত রেখেছে।
- জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে কোম্পানিগুলো নিজেরাই লোকসানে চলছে এবং ভর্তুকির ওপর টিকে আছে, তাদের এই ধরনের বোনাস সংস্কৃতি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
- বিদ্যুৎ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং অপচয় রোধ করতে অবিলম্বে ভর্তুকিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অডিট বা তদন্তের দাবি উঠেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি ভর্তুকিতে পরিচালিত বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন কোম্পানির কার্যকারিতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যখন সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে অব্যাহতভাবে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করছে, অন্যদিকে এসব কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিয়মিতভাবে প্রফিট বোনাস গ্রহণ করছেন। এই দ্বিমুখী চিত্রে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করতে গিয়ে সরকারকে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অথচ ভর্তুকির অর্থে চলা এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় সংকোচন না করে কর্মীদের মোটা অংকের বোনাস দেওয়া নিয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা তীব্র সমালোচনা করছেন।
জ্বালানি খাতের বিশিষ্ট গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রফিট বোনাস মূলত কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়। কিন্তু যে কোম্পানিগুলোর মূল চালিকাশক্তিই হলো সরকারি অনুদান ও ভর্তুকি, সেখানে প্রফিটের ধারণাটিই অবাস্তব। এর ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর বেতন কাঠামো, ইনসেনটিভ পলিসি এবং ভর্তুকি বরাদ্দের নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ করতে অবিলম্বে এই বোনাস বিতরণের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা উচিত।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।