ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ নেওয়া যাবে না বলে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি রোধে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ফি ব্যতিরেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভূমি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে একটি টাকাও অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে না।
- সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমাতে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতে মাঠপর্যায়ের সকল ভূমি অফিসে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- অতিরিক্ত ফি আদায় বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি এক নির্দেশনায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সেবার জন্য নির্ধারিত ফির বাইরে একটি টাকাও অতিরিক্ত নেওয়া যাবে না। এই পদক্ষেপে সেবাগ্রহীতারা নির্ধারিত সরকারি ফি দিয়েই নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন ও ভূমি নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন। মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ ছিল। জমির মালিকানা পরিবর্তন ও নামজারির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত উৎকোচ দিতে বাধ্য হতেন সাধারণ মানুষ। নতুন এই নির্দেশনার ফলে সেবাপ্রার্থীরা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং চ্যানেল বা ডিজিটাল মাধ্যমেই কেবল সরকারি ফি পরিশোধ করবেন, যা ভূমি খাতের দুর্নীতি হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, কেবল নির্দেশ জারি করলেই হবে না, এর মাঠপর্যায়ে কঠোর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। ভূমি সেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়ার সাথে এই অনিয়ম রোধের পদক্ষেপ যুক্ত হওয়ায় সেবা প্রক্রিয়ায় আরও গতি আসবে। দুর্নীতি রোধে হটলাইন বা অভিযোগ কেন্দ্র চালুর কথাও ভাবছে কর্তৃপক্ষ, যাতে তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এই নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন দেশের কোটি কোটি সাধারণ ভূমি মালিকের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে এবং সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা করবে। ভূমি খাতের এই সংস্কার কার্যক্রম সফল হলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি হয়রানিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সার্বিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।