৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগে হাজির করা হয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। শুনানিকালে প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ্য করে ‘ভয় পাইছে’ বলার পর ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে দেন এবং ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেন। বিটিআরসি কর্মকর্তার জবানবন্দিতে উঠে আসে পলকের নির্দেশেই সরকারি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জুলাই আন্দোলনের সময় গণহত্যার তথ্য আড়াল করতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সরাসরি নির্দেশে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ্য করে পলক ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলে মন্তব্য করলে ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’।
- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দেওয়া জবানবন্দিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের নেপথ্য কাহিনী ও পলকের ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির করা হয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। শুনানির একপর্যায়ে আদালতের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও প্রসিকিউটরদের লক্ষ্য করে বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ্য করে পলককে ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতে শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে দিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন এবং বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’। আদালত তাকে আইন অনুযায়ী শালীনতা বজায় রেখে কথা বলার নির্দেশ দেন।
আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নৃশংসতার তথ্য ও ভিডিওচিত্র বিশ্ববাসীর কাছ থেকে আড়াল করতেই ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিটিআরসির এক কর্মকর্তার দেওয়া দীর্ঘ জবানবন্দিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মৌখিক ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে দেশের সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কৃত্রিমভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ছিল সরকারের একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন দমনের নামে সংঘটিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন করা এবং দেশবাসীকে মূলধারা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা। বিটিআরসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবানবন্দিতে পলকের এই নির্দেশনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও লগ ফাইল ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে, যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এই ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাকে একটি অন্যতম প্রধান অপরাধ হিসেবে দেখছে প্রসিকিউশন টিম। প্রযুক্তি খাতের অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীরা। এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রযুক্তির অপব্যবহারের নেপথ্যে থাকা মূল কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার RTV News-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।