ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১.০৪ এবং সর্বনিম্ন ২৬.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই আর্দ্র আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বঙ্গে শীতের আগমন কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর, আসছে কালীপুজোয় বৃষ্টির তেমন কোনো আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর সরাসরি প্রভাব না থাকলেও এর প্রভাবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ঝাড়গ্রামে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
- মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩১.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ অনেকটাই বেশি।
- আবহাওয়াবিদ হাবিবুর রহমানের মতে, বর্তমানের এই নিম্নচাপ ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির ফলে বঙ্গে শীতের আগমন পিছিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ১২ নভেম্বরের পর থেকেই মূলত তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঘূর্ণিঝড় মুরাসু ইতিমধ্যেই স্থলভাগে আছড়ে পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে এর সরাসরি কোনো আঘাত হানার আশঙ্কা নেই। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় আজ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতেও দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের এই বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার জেরে রাজ্যে বঙ্গে শীতের আগমন বেশ কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সামান্য হিমেল আমেজ অনুভূত হলেও বর্তমানে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। দিনের বেলায় গরম ও আর্দ্রতা থাকলেও রাত নামলে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে।
আবহাওয়াবিদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দুই বঙ্গেই আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও পরিষ্কার হতে শুরু করবে। সাধারণ মানুষের মনে কালীপুজোর আবহাওয়া নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে আশার কথা শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর; কালীপুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে চলতি নিম্নচাপের রেশ কাটলে আগামী ১২ নভেম্বরের পর থেকেই ধীরে ধীরে পারদ পতন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তন এবং ঘূর্ণাবর্তের এই লুকোচুরির ফলে চলতি বছরে শীতের প্রকৃত আমেজ পেতে রাজ্যবাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আবহাওয়ার এই সাময়িক পালাবদল কৃষিকাজ বা দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তরপশ্চিমের বাতাস দক্ষিণমুখী হলে তবেই বঙ্গে স্থায়ীভাবে শীতের আমেজ নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।