পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বৃহস্পতিবার এই নীতি প্রকাশ করেন। এতে বিদ্যুৎ শুল্ক ও স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড়, ঋণের সুদে ভর্তুকি এবং ইপিএফ সহায়তার মতো একগুচ্ছ সুবিধা রাখা হয়েছে। অনগ্রসর মহকুমায় শিল্প স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে মেগা প্রকল্পে প্রতি একরে ৫০টি কর্মসংস্থান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- উৎপাদনকারী ও পরিষেবা প্রদানকারী ইউনিটগুলো টানা ৫ বছর বিদ্যুৎ শুল্ক থেকে সম্পূর্ণ ছাড় পাবে এবং প্রকল্পের জমির ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটিতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
- অলাভজনক হাসপাতাল বা বিদ্যালয় যারা সিএসআর তহবিল থেকে পরিচালিত হয়, তারা রাজ্যে অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে ১০০ শতাংশ ডিউটি ফি মকুবের সুবিধা পাবে।
- মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রতি একর জমিতে ন্যূনতম ৫০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বড় প্রকল্পের জন্য রাস্তা, জল ও বিদ্যুৎ সংযোগে সরকার সরাসরি সহায়তা করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে একগুচ্ছ নতুন ও আকর্ষণীয় শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতি প্রকাশ করেন। নতুন এই নীতিতে বিদ্যুৎ শুল্ক থেকে শুরু করে ইপিএফ (EPF) সহায়তা এবং এসজিএসটি (SGST)-তে ছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সরকার লিজ নেওয়া জমির ভাড়ার ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই শিল্পনীতির অন্যতম প্রধান দিক হলো এমএসএমই (MSME) খাতের জন্য ঋণের সুদে ছাড় এবং নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগে সরকারি সহায়তা। যেসব মহকুমায় শিল্পোন্নয়ন তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি প্রণোদনা রাখা হয়েছে। এছাড়া বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন রাস্তা, জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার সরাসরি ভূমিকা পালন করবে। গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) ক্ষেত্রেও বিশেষ সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিল্পনীতি প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়সহ স্বপন দাসগুপ্ত, অর্জুন সিং এবং শঙ্কর ঘোষের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া হর্ষবর্ধন নেওটিয়া, সঞ্জয় বুধিয়া ও ময়াঙ্ক জালানের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শিল্পপতিদের মতে, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শিল্পনীতি রাজ্যের শিল্প মানচিত্র বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে অলাভজনক হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ১০০ শতাংশ ডিউটি ফি মকুবের সিদ্ধান্তটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের প্রসারে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।