৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক ড্রোনের গতি মন্থর ও কার্যকারিতা কমে যাওয়ার নেপথ্যে মার্কিন সরকারের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অন্যতম বড় ভরসা স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড প্রযুক্তির ব্যবহারে রাজনৈতিক চাপ এবং নীতিগত বিধিনিষেধের কারণে এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সামরিক ড্রোনের সক্ষমতা হ্রাসে স্পেসএক্সের নয়, বরং মার্কিন সরকারি নীতি বা নির্দেশের প্রভাব থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইলন মাস্ক।
- ইউক্রেন যুদ্ধে যোগাযোগ ও ড্রোন হামলায় ব্যবহৃত স্যাটেলাইটভিত্তিক 'স্টারলিংক' এবং বিশেষ সামরিক সংস্করণ 'স্টারশিল্ড'-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ উঠেছে।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ এবং যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক কৌশল ইউক্রেনের আকাশসীমার ড্রোন অপারেশনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে কূটনৈতিক মহলে দাবি উঠছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠা সামরিক ড্রোনের কার্যক্ষমতা ও গতি হঠাৎ হ্রাস পাওয়ার পেছনে মার্কিন সরকারের পরোক্ষ হাত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। রণাঙ্গনে ইউক্রেনীয় সেনাদের ইন্টারনেট ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদের প্রধান ভরসা স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট সেবা 'স্টারলিংক'। সম্প্রতি ফ্রন্টলাইনে ড্রোন পরিচালনায় তীব্র বিঘ্ন ঘটায় বিষয়টি নিয়ে মাস্কের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এর দায় তার সংস্থার একক সিদ্ধান্তের নয়, বরং মার্কিন নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ইউক্রেনকে হাজার হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল সরবরাহ করে সম্মুখ সমরে ব্যাপক সহায়তা দিয়ে আসছে। পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অর্থায়নে আরও শক্তিশালী ও এনক্রিপ্টেড সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবস্থা 'স্টারশিল্ড' যুক্ত হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ অবসানের অঙ্গীকার এবং পেন্টাগনের অস্ত্র নীতিতে পরিবর্তনের ফলে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে একাধিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ উঠে আসছে।
ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষক ও ফিল্ড কমান্ডারদের দাবি, স্টারলিংক সংযোগে বারবার গতি কমে যাওয়া বা জিওফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলে কার্যকারিতা বন্ধ করে দেওয়ায় ড্রোনগুলো লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট নীতিপ্রণেতাদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। অপরদিকে, ইলন মাস্ক বরাবরই স্পষ্ট করেছেন যে স্টারলিংক মূলত বেসামরিক প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত, এটিকে সরাসরি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা দীর্ঘপাল্লার গভীর হামলার অফেনসিভ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারে ওয়াশিংটনের কিছু সুস্পষ্ট শর্ত রয়েছে।
রণাঙ্গনে ড্রোনের কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ায় সম্মুখভাগে ইউক্রেনীয় পদাতিক বাহিনীর ওপর রুশ আর্টিলারি ও মিসাইল হামলার চাপ বহুগুণ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে এই ড্রোন সংযোগে বিধিনিষেধ স্থায়ী হলে তা ইউক্রেনের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলকে মারাত্মক বিপর্যয়ে ফেলবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য কিয়েভকে সমঝোতায় বাধ্য করতে ওয়াশিংটনের ভেতরে এমন কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা পুরো ভূরাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।