মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ৬০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। ২৯ ওভারে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসের ২৭ রান মিলিয়ে মোট ১০৬ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। উইকেটে অপরাজিত আছেন নাঈম হাসান ও জাকের আলী। রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যান নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রান সংগ্রহ করেছে এবং প্রথম ইনিংসের ২৭ রানসহ মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রান।
- वेस्ट ইন্ডিজের বোলার রোস্টন চেজ এবং জোমেল ওয়ারিক্যান দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের ইনিংসে ধ্বস নামান, যেখানে মাত্র ৬০ রানেই পতন ঘটে ৬ উইকেটের।
- দিনের শেষভাগে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে সপ্তম উইকেটে নাঈম হাসান ও জাকের আলী অবিচ্ছিন্ন থেকে ২৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে মারাত্মক ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসের রান যোগ করলে বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়ায় ১০৬ রান। উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নাঈম হাসান ও জাকের আলী, যারা সপ্তম উইকেটে ইতিমধ্যে অবিচ্ছিন্ন ২৬ রানের জুটি গড়েছেন। অপর্যাপ্ত আলোর কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই আলোকস্বল্পতার জন্য তৃতীয় দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের পক্ষে নাঈম হাসান সর্বোচ্চ ৪টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ক্যারিবীয়দের পক্ষে তেজনারায়ণ চন্দরপল ৫৬ এবং জাস্টিন গ্রিভস ৪৬ রান করেন। প্রথম ইনিংসে সামান্য লিডের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য থাকলেও ক্যারিবীয় বোলিং তোপে শুরু থেকেই দিক হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের একদম শুরুতেই শামার জোসেফের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান।
এরপর সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালালেও ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজের ঘূর্ণিতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ১১তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন চেজ; তিনি প্রথমে সাদমানকে বোল্ড এবং পরে তাওহিদ হৃদয়কে সাজঘরে পাঠান। এরপর ব্যক্তিগত স্কোরে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি অধিনায়ক শান্ত। ৩৩ রান তুলতেই টপ অর্চারের ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে স্বাগতিক দল। বৃষ্টি বিঘ্নিত তৃতীয় সেশনের শুরুতে জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে লিটন দাস (৪) এবং মেহেদী হাসান মিরাজ (৯) বোল্ড হয়ে ফিরলে দলের রান দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৬০।
মাত্র ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লজ্জাজনক পরাজয়ের শঙ্কা জাগলেও নাঈম হাসান ও জাকের আলীর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সেই শঙ্কা কিছুটা কেটে যায়। নাঈম একবার এলবিডব্লিউর হাত থেকে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এবং শেষ পর্যন্ত এই দুজনে মিলে দলের লিড একশ পার করেন। চতুর্থ দিনে এই জুটির স্থায়িত্ব এবং স্কোরবোর্ডে আরও অন্তত ৫০-৬০ রান যোগ করতে না পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যেতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। মিরপুরের উইকেটে স্পিনারদের বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে রান তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে বাংলাদেশের জন্য।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।