দেশের বাজারে টানা কয়েক দফা হ্রাসের পর আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরি ভালো মানের স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নির্ধারণ করেছে। বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার মূল্য হ্রাসের ফলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা।
- স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমে যাওয়ায় এবং বৈশ্বিক স্বর্ণের বাজারের মন্দাভাবের কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
- নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী প্রতি গ্রাম ভালো মানের স্বর্ণের দাম এবং অন্যান্য গ্রেডের সোনাতেও আনুপাতিক হারে দাম কমানো হয়েছে যা সারাদেশের বাজারে অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এর ফলে সাধারণ ক্রেতা ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য অলংকার কেনা কিছুটা সহজ হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের আউন্স প্রতি দামে অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্যের ওঠানামার কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে বুলিয়নের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। বাজুস সূত্রে জানা গেছে, শুধু ২২ ক্যারেট নয়, বরং ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও একই অনুপাতে কমানো হয়েছে, যা সারাদেশের সব জুয়েলারি শো-রুমে অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমার এই প্রবণতা বাজারে কিছুটা স্থবিরতা কাটিয়ে বেচাকেনা বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে আসন্ন বিয়ে ও উৎসবের মৌসুমে গ্রাহকরা এই দাম হ্রাসের সুফল পাবেন। তবে বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনে স্বর্ণের বাজারে দাম আরও কমতে বা বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। সাধারণ ক্রেতারা বাজুসের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সবমিলিয়ে, দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির এই সময়ে স্বর্ণের বাজারে দাম কমার বিষয়টি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাজারের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে স্থানীয় বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মূল্যবান এই ধাতুর আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।