ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত সভায় তিনি বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতালে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় তিনি লার্ভা ও অবহেলার দায়ে সরাসরি ফ্ল্যাট বরাদ্দ বাতিল এবং কঠোর জরিমানার কড়া নির্দেশ দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ বিষয়ক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
- বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতালে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ বাতিল ও বড় অঙ্কের জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
- ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ, নেটিং এবং ফাইবার বোর্ডের নতুন ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকা শহরকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। সভাটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, যেখানে ঢাকা মহানগরীর পরিবীক্ষণ দায়িত্বে নিয়োজিত ২০টি কমিটির সদস্যরাও অংশ নেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও বিভিন্ন হাসপাতালে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় তীব্র দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা হবে না। সরকারি বাসভবনে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বা মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ফ্ল্যাটের বরাদ্দ সরাসরি বাতিল করা হবে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখতে ব্যর্থ হলে তাদের সরকারি বাসায় বসবাসের কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
নগরীর সৌন্দর্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের আগের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে রাজউক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। এছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও নেটিং করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার স্থায়ী সমাধানকল্পে প্লাস্টিক বা লোহার পরিবর্তে ফাইবার বোর্ড দিয়ে নতুন ডাস্টবিন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন, যা পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে স্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের এলাকাভিত্তিক ২০টি জোনে মোট ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১০টি এবং দক্ষিণে ১০টি কমিটি মাঠে কাজ করছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সরকারের এই কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই রাজধানীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সভার পক্ষ থেকে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।