ঢাকায় এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের আওতায় নতুন দুই মেট্রোরেল স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার বা ১০০ কোটি ডলারের এই নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুবরো (এলঅ্যান্ডটি)। এর ফলে রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুবরো (এলঅ্যান্ডটি) মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বা ১০০ কোটি ডলার মূল্যের এই কাজ পেয়েছে।
- এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নির্মাণ কাজের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- এই চুক্তির আওতায় নতুন রেলপথ ও আধুনিক স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং জনবান্ধব করে তুলতে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের অধীনে নতুন দুই মেট্রোরেল স্টেশন ও রেলপথ তৈরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ এর কাজ বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ভারতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুবরোকে (এলঅ্যান্ডটি) বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই চার প্যাকেজের আওতায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং পূর্বাচল থেকে কুড়িল পর্যন্ত পাতাল ও উড়াল উভয় পথেই মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া যাত্রীদের সহজে যাতায়াতের জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নতুন স্টেশনগুলোর নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের মতে, ভারতের এলঅ্যান্ডটির মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় থাকবে। এর আগে এমআরটি লাইন-৬ সফলভাবে চালুর পর থেকেই নগরবাসীর মধ্যে মেট্রোরেলের প্রতি আস্থা ও চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই লাইনগুলো চালু হলে প্রতিদিন লক্ষাধিক অতিরিক্ত যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে ও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, যা শহরের ট্রাফিক জ্যাম কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
সার্বিকভাবে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের এই অবকাঠামো বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।