জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণে রাজধানী ঢাকার গুলশান ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিক শুরু হলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাতীয় গ্রিডে আকস্মিক বিপর্যয়ের ফলে ঢাকা মহানগরীর গুলশান, মতিঝিল, নারায়ণগঞ্জের কিছু অংশ এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় সচল করতে সক্ষম হন।
- গ্রিড ফেলের এই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ দেখা দেওয়া বড় ধরনের বিপর্যয়ের ফলে রাজধানী ঢাকার গুলশান ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চল এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এই আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে আকস্মিকভাবেই অন্ধকারে ডুবে যায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক একাধিক জোন। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস আদালত, ব্যাংকিং খাত এবং দৈনন্দিন সেবা কার্যক্রমে মারাত্মক স্থবিরতা নেমে আসে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রকৌশলীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রিডের কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাব-স্টেশনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা ওভারলোডের কারণে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো সচল করতে সক্ষম হন এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
তবে গ্রিড আংশিক সচল হওয়ার পরও রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় ঘন ঘন লোডশেডিং। অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণে এই লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েন সাধারণ গ্রাহকরা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিশু ও বয়স্কদের। হাসপাতাল ও জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাময়িকভাবে বিকল্প জেনারেটর ব্যবহার করে কার্যক্রম সচল রাখতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন এ ধরনের গ্রিড বিপর্যয় দেশের বিদ্যুৎ খাতের দুর্বল অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির বড় প্রমাণ। এর স্থায়ী সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গ্রিড অটোমেশন এবং সঞ্চালন লাইনগুলোর নিয়মিত নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।