ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) এর আটটি স্টেশন নির্মাণসহ চার প্যাকেজের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের এই কাজগুলো পেয়েছে, যা রাজধানী ঢাকার আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের আওতায় চার প্যাকেজে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি (১০০ কোটি ডলার) টাকার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
- ভারতের স্বনামধন্য প্রকৌশল ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের দায়িত্ব লাভ করেছে।
- চুক্তির অধীনে দুই মেট্রোরেল রুটের মোট আটটি নতুন স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মিত হবে, যা রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করে তুলতে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতাধীন এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট)-এর চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার এই বিশাল অংকের কাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এই চুক্তির ফলে দেশের মেগা প্রকল্পের ইতিহাসে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক যুক্ত হলো।
প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এবং হেমাায়েতপুর থেকে গাবতলী ও মিরপুর হয়ে সাভার পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ পরিচালিত হবে। এই চার প্যাকেজের মূল আকর্ষণ হলো আটটি নতুন স্টেশন ও এর আশপাশের ইউটিলিটি স্থানান্তর, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এর আগে জাপানি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় মেট্রোরেলের প্রথমার্ধের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলেও নতুন এই প্যাকেজগুলোতে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যুক্ত হওয়া এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এলঅ্যান্ডটির মতো আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কাজের গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে জনবহুল ঢাকায় যানজট নিরসন এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করতে এই দুটি লাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন তদারকি আরও জোরদার করেছে।
এই চার প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হলে ঢাকা মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ এবং পূর্ব ও পশ্চিম অংশের যাতায়াত ব্যবস্থার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষের দৈনিক যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের এই ধারা ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় প্রকল্পে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে অর্থনীতিবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদেরা মত প্রকাশ করেছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।