ধনতেরাস উপলক্ষে সোনা কেনার ঐতিহ্য থাকলেও এবার বাজারে ক্রেতার খরা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা বিমুখ। বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার স্বর্ণের বাজারে বিক্রির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- গত বছরের ধনতেরাসের তুলনায় চলতি বছর সোনার দাম প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে মূল্যবান এই ধাতু।
- আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২,৭৪০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় স্থানীয় বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে, যা খুচরা বিক্রিতে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ধনতেরাসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর স্বর্ণের বাজারে যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে, এবার তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। দীপাবলির প্রাক্কালে সোনা কেনাকে শুভ মনে করা হলেও, আকাশচুম্বী দামের কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি নগণ্য। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৪ টাকা। এই উচ্চমূল্য সাধারণ ক্রেতাদের গয়না কেনার আগ্রহে বড় ধরনের ভাটা ফেলেছে।
সোনার এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। গত বছরের এই সময়ে সোনার দাম যে পর্যায়ে ছিল, তা থেকে বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারী বা শৌখিন ক্রেতা—উভয় পক্ষই এখন সোনা কেনার চেয়ে নগদ অর্থ ধরে রাখাকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন। এছাড়া, বাজারে সোনার বিশুদ্ধতা ও মান নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও উচ্চমূল্যের কারণে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় নেই বললেই চলে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মতে, ধনতেরাসের দিন সাধারণত যে পরিমাণ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকে, এবার তার ৩০ শতাংশও পূরণ হওয়া কঠিন। অনেক ক্রেতা পুরনো সোনা বদলানোর দিকে ঝুঁকছেন, নতুন গয়না কেনার হার তলানিতে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে সোনার দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত নেই। ক্রেতাদের এই অনীহা দীর্ঘমেয়াদে জুয়েলারি শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিকভাবে, সোনার বাজারের এই মন্দা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের হাতে বাড়তি অর্থের জোগান কম, যা বিলাসদ্রব্য বা মূল্যবান ধাতু কেনার সক্ষমতাকে সংকুচিত করেছে। ধনতেরাসের মতো উৎসবের দিনেও ক্রেতাদের এই অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বাজারের এই স্থবিরতা কাটবে কি না, তা নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতার ওপর।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।