পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তুলনায় বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা দাম ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১১৩ টাকা থাকলেও নভেম্বরে তা বেড়ে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট, দীর্ঘ জাহাজের রুট ও স্পট মার্কেটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পরিবহন ও প্রিমিয়াম ব্যয় বৃদ্ধিই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নভেম্বর মাসের বাজারদর অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা মূল্য ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা, যা পাকিস্তানের ১৩২ টাকা, শ্রীলঙ্কার ১৩০ টাকা এবং নেপালের ১১৯ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১১৩ টাকা ছিল, যা বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এলপিজি আমদানির ফলে পরিবহন ব্যয় প্রতি টনে ৮২ ডলার থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলারে পৌঁছেছে এবং জাহাজের যাত্রাসময় দুই সপ্তাহ থেকে বেড়ে ৪০-৪৫ দিনে দাঁড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সরকারি বা প্রকাশিত খুচরা দরের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম যেখানে ১১৩ টাকা ছিল, নভেম্বরে তা বেড়ে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মুদ্রা বিনিময় হার সমন্বয়ের পর পাকিস্তানে এলপিজির দাম প্রায় ৩৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১২ শতাংশ এবং নেপালে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির পেছনে কাঠামোগত ও ভূরাজনৈতিক বেশ কিছু কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর ফলে আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস হিসেবে দূরবর্তী বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিইআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলপিজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ থাকলেও চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে ওমান থেকে আমদানি শূন্যে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনতে সময় ও খরচ দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ওমেরা পেট্রোলিয়ামের পরিচালক এবং এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী জানান, সংঘাতের পূর্বে প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় প্রায় ৮২ ডলার থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলারে ঠেকেছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব এবং মাদার ভেসেল থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস করার অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেও দেশের বাজারে আমদানিকৃত এলপিজির দাম বাড়তি থাকছে। স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় আমদানিকারক ও সাধারণ ভোক্তা উভয়কেই এই বাড়তি আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতের এই দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা রোধ করতে হলে দেশের এলপিজি আমদানির বৈচিত্র্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় আঞ্চলিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের ভোক্তাদের চড়া মূল্যে এলপিজি কিনতে বাধ্য হতে হবে, যা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।