২০২৬ সালের দুর্গোৎসবে কলকাতার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহ্যবাহী থিমের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। গড়িয়ার একটি আবাসিক এলাকায় চিন্ময়ী নারীরাই মৃন্ময়ী দশভুজার আরাধনার মূল কান্ডারি হিসেবে বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়া খিদিরপুর পল্লী শারদীয়া ও সন্তোষপুর লেকপল্লীসহ নানা মণ্ডপে ঘোড়ার গাড়ি, কুম্ভমেলার আমেজ এবং শিবশঙ্করের তাণ্ডবনৃত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গড়িয়ার একটি বিশিষ্ট আবাসন প্রকল্পে পুরুষদের ছাড়াই শুধুমাত্র নারী বা 'চিন্ময়ী'দের উদ্যোগে মৃন্ময়ী দশভুজার দুর্গোৎসব সফলভাবে উদযাপিত হয়েছে।
- খিদিরপুর পল্লী শারদীয়াজুড়ে পুরনো কলকাতার নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনতে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি ও কলকাতার হারিয়ে যাওয়া রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- সন্তোষপুর লেকপল্লীর পক্ষ থেকে অহঙ্কারের পতন ও মহাদেবের প্রলয়নৃত্য থিমে চিনের হরফে শিবশঙ্করের তাণ্ডবলীলা অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন ও চলমান শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের পুজো কমিটিগুলো তাদের নান্দনিক ও ভাবনাভিত্তিক থিমের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। প্রথাগত পুজোর গণ্ডি পেরিয়ে এ বছর শহর ও শহরতলির মণ্ডপগুলোতে সামাজিক বার্তা এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে গড়িয়ার একটি অভিজাত আবাসনে সম্পূর্ণ নারী শক্তির ওপর ভরসা করে দুর্গোৎসব আয়োজনের ঘটনাটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে, যেখানে আবাসনের নারীরাই আবাহন থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন।
শুধু নারীদের এই অনন্য উদ্যোগই নয়, কলকাতার ঐতিহ্য এবং পুরনো দিনের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনতে খিদিরপুর পল্লী শারদীয়াজুড়ে এক ভিন্নমাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া খিদিরপুরের দিনগুলো এবং ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার ফুটিয়ে তুলে আয়োজকরা দর্শকদের ফেলে আসা সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, সন্তোষপুর লেকপল্লীর পুজোয় অহঙ্কারের পতন এবং মহাদেবের প্রলয়নৃত্যকে কেন্দ্র করে এক বিশাল আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চিনের হরফে শিবশঙ্করের তাণ্ডব ফুটিয়ে তোলার অভিনব ভাবনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুজো আয়োজক কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবছর প্রতিটি মণ্ডপেই দর্শনার্থীদের সুরক্ষার পাশাপাশি শিল্পকলা ও ভাবনার অভিনবত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়াগরাজ বা হরিদ্বারের আদলে কলকাতার বুকেই কুম্ভমেলার আমেজ কিংবা পুকুরঘাটের গল্পভিত্তিক থিম—সব মিলিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির এই সর্ববৃহৎ উৎসবকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই বৈচিত্র্যময় থিমভিত্তিক আয়োজনগুলো কেবল বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে না, বরং বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজভাবনাকে এক সুতোয় বাঁধছে। অর্থনীতি ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই শারদীয় উৎসবের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।