সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ও ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন বর্ধমানের ঐতিহাসিক একান্নবর্তী পরিবারের নারীরা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় জানানো হয়। আগামী এক বছরের অপেক্ষা ও বিষাদের সুরের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে পাঁচ দিনব্যাপী এই আনন্দঘন মহাতিথির।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজয়া দশমীর দিনে বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী একান্নবর্তী পরিবারের নারী সদস্যরা চিরাচরিত নিয়ম মেনে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন এবং দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান।
- ঢাকা জেলার কেন্দ্রীয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে লাখো মানুষের ঢল নামে এবং ভক্তরা অংশ নেন।
- পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গার মর্ত্যলোক থেকে কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে এক বছরের প্রতীক্ষা শুরু করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মাধ্যমে। বিদায়ের সুর আর বুকভরা বিষাদ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্দিরে দেবীকে শেষ বিদায় জানাতে মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রতিমা বিসর্জনের আগের মুহূর্তে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা, যা এই উৎসবের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী আচার।
শাস্ত্রীয় বিধান ও পঞ্জিকা মতে, দশমীর বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জনের পরই শুরু হয় দেবী প্রতিমা ঘাটে নিয়ে যাওয়ার পালা। ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ দেশের প্রধান প্রধান বিসর্জন ঘাটগুলোতে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি এবং 'শুভ বিজয়া'র শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে মর্ত্যলোক থেকে কৈলাসে বিদায় জানান।
এবারের দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা এবং ভক্তিমূলক গানের আয়োজন করা হয়। বিসর্জনের দিন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মেলবন্ধনের এক অনন্য নজির স্থাপন করে। প্রতিমা বিসর্জনের সাথে সাথে সমাপ্তি ঘটল এ বছরের শারদ উৎসবের, তবে ভক্তদের মনে এখন একটাই অপেক্ষা—আগামী বছর শরতের কাশফুলের হাসিতে আবারও মর্ত্যে ফিরে আসবেন দেবী দুর্গা, এই প্রত্যাশায় শুরু হলো আরেকটি বছরের ক্ষণগণনা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।